রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন

২ নেতা হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও খুলনার কয়রা উপজেলায় ছাত্রলীগের দুই নেতা হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে দশটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, শিবির ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনতিবিলম্বে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মী দিনরাত মাঠে থাকবে। জাতির পিতার এই বাংলাদেশে কোন জামাত-শিবির কিংবা পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা থাকতে পারবে না। তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য আমরা দিনরাত মাঠে থাকবো।

ফলেই বৃক্ষের পরিচয় পাওয়া যায় জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা জামাত শিবিরের চেহারা দেখলে বুঝতে পারি, তাদের কার্যকলাপ চিনতে পারি। বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কোন স্থান হবে না। ছাত্রলীগের একটি নেতাকর্মী জীবিত থাকতে বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থান হতে দেবো না। এসময় তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিজেদের অবস্থান থেকে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি সবসময় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কুচক্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নজিরবিহীনভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াত বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সন্ত্রাসের যে চিত্র আমরা দেখেছি তারা সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায়।

জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি সাংবিধানিকভাবে বন্ধ করার জন্য দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন ব্রিটিশদের উপনিবেশবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি, তখনও জামায়াত শিবিরের প্রেতাত্মারা উপনিবেশবাদ বিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্জন করেছি সেদিনও জামায়াত শিবির স্বাধীনতা বিরোধী হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছে। ঠিক একইরকমভাবে আজকে ২রা মার্চ যখন পতাকা দিবস পালন করছি সেদিনও ছাত্রলীগের দুই সহযোদ্ধার রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সন্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ভিপি-জিপি কারও পেছনে দাড়িয়ে, কারও ছত্রছায়ায় শিবিরের কার্যক্রম চলতে দেয়া যাবে না। যুদ্ধ করতে প্রস্তুত জানিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ যদি করতে হয়, যুদ্ধ করতে আমরা প্রস্তুত। আপনারা কেউ আশাহত করবেন না। সেই যুদ্ধের প্রথম মানুষ আমি হতে চাই।

এর আগে গতকাল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আমান উল্যাহপুর ইউনিয়নে ছাত্রলীগ ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেনের মৃত্যু হয়। একইদিন খুলনার কয়রায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান রাসেলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে দুই নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদে আজ সারাদেশের প্রত্যেকটি ইউনিটকে সকাল ১১টায় একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেয়া হয়।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com