শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : দলের যেকোনও প্রয়োজনে ও দুঃসময়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তার অভাব কখনো পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা।
তারা বলছেন, নাসিম ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা। ছিলেন বিশ্বস্ত সহকর্মী। রাজনীতিতে তার ভূমিকা অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন মোহাম্মদ নাসিম।
তার মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মোহাম্মদ নাসিম দীর্ঘজীবন গণমানুষের মুক্তির জন্য কাজ করেছেন। অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সাম্যভিত্তিক প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান বাঙালি জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বৈরাচার-সামরিক শাসনবিরোধী লড়াইয়ে তার তেজদীপ্ত ভূমিকা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
‘তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ একজন সৎ, ত্যাগী, নিষ্ঠাবান, অনুসরণযোগ্য এক অকৃত্রিম সুহৃদকে হারালো।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, মোহাম্মদ নাসিম সংগ্রামী নেতা ছিলেন। তিনি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শুধু অশংগ্রহণই করেননি, অনেকবার জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সময়ে মোহাম্মদ নাসিমের ওপর নির্যাতন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাকে সাজা দেয়া হয়। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে পারেননি। মোহাম্মদ নাসিম কখনো জীবনে নির্বাচনে হারেননি। ১/১১ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীনও নাসিমকে গ্রেপ্তার করে কাশিমপুর কারাগারে রাখে। সেখানে তিনি প্রথম স্ট্রোক করেছিলেন।’
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার অবদান তুলে ধরে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। অনেক আন্দোলনের পুরোভাগে তিনি ছিলেন। অনেকবার তিনি পুলিশ কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছেন, কিন্তু থেমে থাকেননি।’
মোহাম্মদ নাসিমকে বড় মাপের নেতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন নাসিম। নাসিম জীবনে কখনো নির্বাচনে হারেননি। দলের প্রয়োজনে নাসিমের অভাব পূরণ হওয়ার নয়। আওয়ামী লীগের পরীক্ষিতি নেতা ছিলেন তিনি। ছিলেন বিশ্বস্ত সহকর্মী।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন সৈনিক। তিনি সারাজীবন কষ্ট করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, জেল খেটেছেন, কিন্তু কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। জনগণের সঙ্গে ছিলো তার আত্মার সম্পর্ক। তার সমস্ত কাজ ছিলো জন কল্যাণকর।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোহাম্মদ নাসিমকে কিংবদন্তী পুরুষ অভিহিত করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগের রাজনীতির কিংবদন্তী। রাজনীতিতে তার চরিত্র ছিলো সাহসিকতায় ভরপুর। ১/১১ এর সময়ে জুলুমের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যে কারণে তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেছিলেন সে সময়। ওই সময়েই তিনি মূলত অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘নাসিম এদেশের প্রগতিশীল রাজনীতি ও স্বাধীনতার পক্ষের, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম ও জোটের মুখপাত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। জেল হত্যার শিকার আমাদের জাতীয় চার নেতার একজন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিমের রাজনীতিতে যে ভূমিকা তা অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামের বাঁকে বাঁকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তার পিতা বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্টজন ছিলেন। তার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে রাজনীতিতে তিনি যে অবদান রেখেছেন তা অপূরণীয়। আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে যাওয়ায় কথা বলার ভাষা নেই। মোহাম্মদ নাসিমের মতো নেতাদের মৃত্যু নেই। তারা মরেও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’
আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুসংবাদ আমাদের জন্য চরম আঘাত। তিনি শুধু আওয়ামী লীগ নয়, জাতীয় রাজনীতির বলিষ্ট সাহসী মানুষ ছিলেন। জনবান্ধব কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে কোনো আপস করেননি। স্বৈরাচার সরকার, বিএনপি-জামায়াত সরকার, এক-এগারোর সরকার জেলখানায় তাকে আটকে রেখেছিলো, অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গণতন্ত্রের জন্য অকুতোভয় ছিলেন তিনি।’
নগরকন্ঠ.কম/এআর