মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
অন্যান্য ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : ৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে চিকসুলাব গ্রহাণু পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। এক ধাক্কায় তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছিল ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এই বর্ধিত তাপমাত্রা চলেছিল পরবর্তী প্রায় এক লাখ বছর ধরে।
পৃথিবীর তাপমাত্রা যে বাড়ছে তা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। বিজ্ঞানীরা বারবার বলেন, এর দায় মানুষেরই। তারা প্রকৃতিকে অতিব্যবহার করে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে আজকের দিনে যে হারে তাপমাত্রা বাড়ছে তারচেয়েও অনেক দ্রুত তাপমাত্রা বাড়িয়েছিল আরেকটি মহাজাগতিক ঘটনা। ওই গবেষণায় জানা গেছে, চিকসুলাব গ্রহাণু- যাকে ডাইনোসর প্রজাতির বিলুপ্তির কারণ হিসেবে ধরা হয়, তার আঘাতে হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল পৃথিবীর তাপমাত্রা। ৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে এ গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল।
তাতে এক ধাক্কায় আমাদের গ্রহের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছিল ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এই বর্ধিত তাপমাত্রা চলেছিল পরবর্তী প্রায় এক লাখ বছর ধরে। আমরা জানি, মানুষের যথেচ্ছ অত্যাচারেই ধরিত্রীর যাবতীয় সিস্টেমগুলো বিগড়ে যাচ্ছে। সেদিক থেকে এ মহাজাগতিক ঘটনাটিকে একটি বিরল ঘটনাই বলতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে এখনকার থেকেও দ্রুত বিগড়ে গিয়েছিল পৃথিবীর নিজস্ব সিস্টেমগুলো।
বর্তমানে যেভাবে চলছে তাতে সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করে আছে। দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে পৃথিবীর আবহাওয়া। এর ফল কী হতে পারে তা জানার জন্য ইতিহাস ঘাঁটছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এতদিন এরকম কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি। সেদিক থেকে এ আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন হঠাৎ, চরম পরিবেশগত পরিবর্তন থেকে পৃথিবীর বুকে কী কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য মিলতে পারে এ সংক্রান্ত গবেষণা থেকে।
তবে চিকসুলাব আঘাতের পরবর্তী প্রভাব নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। একাংশের বিজ্ঞানীরা মনে করেন গ্রহাণুটির আঘাতের পর বায়ুমণ্ডলজুড়ে ছাইয়ের কণা ভেসে বেড়াত। তাতেই পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যালোককে অবরুদ্ধ করে পৃথিবীকে ঠাণ্ডা হতে সাহায্য করেছিল।
আরেক দলের মত, গ্রহাণুটির আঘাতে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে মুক্তি পাওয়া কার্বন এবং তার সঙ্গে দাবানলের আগুন থেকে মুক্ত হওয়া কার্বন পৃথিবীর তাপ বৃদ্ধি ঘটিয়েছিল। সেই আঘাত-পরবর্তী তাপমাত্রার পরিবর্তন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলোরাডো বোল্ডার ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বিশদে গবেষণা চালিয়েছেন।
এর জন্য তাদের হাতে ছিল তিউনিসিয়ার একটি এলাকা থেকে পাওয়া ভালোভাবে সংরক্ষিত মাছের দাঁত, আঁশ এবং হাড়ের নমুনা। তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, নমুনাগুলোর মধ্যে অক্সিজেন আইসোটোপ আছে। অর্থাৎ সেসময় তাপমাত্রা সংশ্লিষ্ট প্রাণীটির বেঁচে থাকার মতো ছিল।
গবেষকরা ভূত্বকের বিভিন্ন স্তর থেকে চিক্সুলাব গ্রহাণুর আঘাতের আগে থেকে আঘাতের অনেক পরের সময় পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সেগুলো বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছেন, সম্ভবত আঘাতের পরই বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তা বজায় ছিল প্রায় ১ লাখ বছর। তারপর আবার আগের তাপমাত্রায় ফিরে যায় পৃথিবী। এই মাত্রা এবং স্থিতিকাল মিলে গেছে অন্য একটি গবেষণার সঙ্গেও। সেটি ছিল গ্রহাণুটি আঘাতের পর কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা ও তার স্থিতিকাল নিয়ে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর