শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন

নজিরবিহীন তাণ্ডবের বিচার চেয়ে হেফাজত নেতা কাসেমীর পদত্যাগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির নেতা মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী। তিনি হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

হেফাজতের তাণ্ডব ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সকালে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠান আব্দুর রহিম কাসেমী।

লিখিত বক্তব্যে কাসেমী বলেন, ”স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমন কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক। দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারে না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এই সমস্ত কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং আমার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সব মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রদের দেশ ও ইসলাম বিরোধী কাজে যোগদান না করতে বাধ্য করি।”

আব্দুর রহিম কাসেমী আরও বলেন, ”বিভিন্ন স্থাপনায় হরতাল চলাকালে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ জানমালের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাতে আমি এবং আমার মাদ্রাসার কোনো ছাত্র অংশগ্রহণ করেনি। আমি হেফাজতের চলমান কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই। তাদের নাশকতামূলক কার্যক্রম অবৈধ মনে করি।

আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে ইসলামের সব কার্যক্রম, জাতীয় ও জেলা কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করছি। যাদের প্ররোচনায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি।”

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা, জেলা পরিষদ কার্যালয়, ডাকবাংলোসহ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে।

এ মামলাগুলোতে এজাহারনামীয় আসামির সংখ্যা ৪১৪ জন, আর অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৩৫ হাজারেরও বেশি। এসব মামলায় আজ শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত ৩৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com