বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

উন্নত চিকিৎসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে বিএনপি। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নির্ধারণের পাশাপাশি গুছিয়ে আনা হয়েছে পারিবারিক অন্যান্য প্রস্তুতিও। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই নেত্রীর চিকিৎসার তত্ত্বাবধায়নে থাকা চিকিৎসকেরা দফায় দফায় তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

শর্ত সাপেক্ষে জেল থেকে মুক্ত থাকায় সরকার অনুমতি পেলেই কেবল বিদেশে রওনা করতে পারবেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

সোমবার (৩ মে) মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁর বিদেশ যাবার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিএনপির উচ্চপর্যায়ে কয়েকজন নেতা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার দিবাগত রাতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসকেরা একাত্তরকে জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত না হওয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি নেই খালেদা জিয়ার সার্বিক পরিস্থিতির।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এপ্রিল মাসে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করা হয় খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রার বিষয়ে।

অন্যদিকে সোমবার (৩) মে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন একাত্তরকে বলেন, ‘ম্যাডামের অবস্থা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দিয়েছি। সেগুলোর প্রতিবেদন আসার পর চিকিৎসকেরা পর্যালোচনা করবেন।  এর আগে বলার মতো কিছু নেই।’

এর আগে, সোমবার ভোর থেকে খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বলে খবর পাওয়া যাচ্ছিল।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসক জানান, দেশের বাইরের একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গেও নিয়মিত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। তার পুত্রবধূ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চিকিৎসক ডা. জোবায়দা রহমানও পুরো কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছেন।

যদিও খালেদা জিয়াকে কোন দেশে নিয়ে যাওয়া হবে, এ বিষয়ে কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার সন্তান তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার লন্ডনে থাকায় সেখানে নেওয়ার বিষয়টিই বেশি আলোচিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা ধারণা করছেন, খালেদা জিয়াকে সিঙ্গাপুর বা ব্যাংককেও নেওয়া হতে পারে লন্ডনে যেতে বেশি জটিলতা থাকলে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার দেশের বাইরে যাওয়ার বিষয়ে সরকার প্রধানের কাছে আবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে অনুমতির অপেক্ষা করছে বিএনপি। দলটির প্রভাবশালী একাধিক দায়িত্বশীল জানান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসার বিষয়টি পুরোপুরি সরকারের ওপর নির্ভর করছে। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পারিবারিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। এখন আইনগতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদনের পর আইনি প্রক্রিয়া দেখভাল করে মতামত দেবে আইন মন্ত্রণালয়। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পরই অবশেষে বিদেশ যেতে পারবেন খালেদা জিয়া।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাতে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরদিন বিএনপি প্রধানের চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। গতকাল সোমবার তার পরিস্থিতির অবনতি হলে বিকালে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয় তাকে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান খালেদা জিয়া। সেখান থেকে এক মাসের মধ্যেই ফেরার কথা থাকলেও চিকিৎসায় সময় লাগায় হওয়ায় দেশে ফিরতে দেরি হয়। ওই বছর ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com