বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

কবিগুরুর ৮০তম প্রয়াণ দিবস আজ

আজ বাইশে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮০তম প্রয়াণ দিবস। বাংলা ১৩৪৮ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শ্রাবণের বাদল ঝরা এ দিনে মারা যান তিনি। করোনার কারণে গতবারের মতো এবারও কবিগুরুর মহাপ্রয়াণ দিবসে থাকছে না প্রকাশ্যে বড় কোনো আয়োজন। তবে ভার্চুয়ালি নানা আয়োজনে হবে কবিগুরুস্মরণ।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই কবি ১২৬৮ বাংলা সালের পঁচিশে বৈশাখ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। মাতা সারদা সুন্দরী দেবী। রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষেরা খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগে বাস করতেন।

বাংলা ১৩৪৮ সালের বাইশে শ্রাবণ (ইংরেজি ৭ আগস্ট-১৯৪১) ঝড়ের দিনেই প্রিয় সখা, বন্ধুর সাথে শেষবারের মতো অসীমে মিলিত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নিজের রচনায় স্রষ্টাকে বারবারই বন্ধু, সখা হিসেবে দেখেছেন কবিগুরু।

“মরণ রে তুহু মম শ্যাম সমান”-শ্যাম সমান মরণকে বরণ করে নিতে প্রিয় ঋতু বর্ষাকেই বেছে নিয়েছিলেন বিশ্বকবি। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে যখন শেষ নিদ্রায় শায়িত রবীন্দ্রনাথ, তখনও যেন তিনি স্রষ্টার চরণধ্বনিই শুনছিলেন।

বেশিরভাগ সাধারণ বাঙালির কাছে রবীন্দ্রনাথ মূলত সঙ্গীত রচয়িতা। মানবমনের প্রায় সব ধরনের আবেগ-অনুভূতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রচনা করা ২ হাজারের বেশি গান নিয়ে তিনি স্থান করে নিয়েছেন কোটি বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়।

শুধু গান নয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী ও গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’য় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। অসাধারণ সৃষ্টিশীল লেখক ও সাহিত্যিক হিসেবে সমসাময়িক বিশ্বে তিনি খ্যাতি লাভ করেন।

লিখেছেন বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনূদিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পাঠ্যসূচিতে তার লেখা সংযোজিত হয়েছে। ১৮৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ প্রকাশিত হয়। এ সময় থেকেই কবির বিভিন্ন ঘরানার লেখা দেশ-বিদেশে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। আজও নানা সময়ে, নানা বিষয়ে রবীন্দ্রনাথই হয়ে আছেন একমাত্র অবলম্বন।

লেখালেখির পাশাপাশি কবিগুরু ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর থেকে তিনি সেখানেই বসবাস শুরু করেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য ‘শ্রীনিকেতন’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

এছাড়া ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, পাবনা, নাটোর এবং উড়িষ্যায় জমিদারি তদারকি শুরু করেন কবি। শিলাইদহে তিনি দীর্ঘদিন কাটান। এখানে জমিদারবাড়িতে তিনি অসংখ্য কবিতা ও গান রচনা করেছেন। পরে শিলাইদহ থেকে সপরিবারে কবি বোলপুরে শান্তিনিকেতনে চলে যান। ১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত পাঁচটি মহাদেশের ৩০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন।

২২ শ্রাবণ জাগতিক যাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটে বাঙালির চিন্তা, মনন ও জীবনের প্রতিটি বাঁকে মিশে থাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। মহাকালের পথ ধরে আবারও এসেছে বাইশে শ্রাবণ। হাজার বছর ধরে তিনি থেকে যাবেন বাঙালির আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহে, দ্রোহ-বিদ্রোহে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com