বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

আনন্দই কেন বিষাদ হয়ে বের হচ্ছে: প্রশ্ন মাশরাফীর

বাংলাদেশের উইকেটকিপিং পজিশনে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা। যা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দৃষ্টিতে আনন্দের ব্যাপার। কিন্তু এই আনন্দই এখন কেন বিষাদ হয়ে বের হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ নুরুল হাসান সোহান ও পরের দুই ম্যাচ মুশফিকুর রহিম উইকেটকিপিং করবেন। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তিনি আরো বলেন, দুটি করে ম্যাচে দুজনকে দেখার পর পঞ্চম ম্যাচ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডমিঙ্গোর এই মন্তব্যের পর ‍তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিজের আইডিতে এ নিয়ে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন মাশরাফী। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পালাবদলের নায়ক মনে করেন, ড্রেসিংরুমের সিদ্ধান্তগুলো সব সময় ড্রেসিংরুমেই থাকা উচিত। তা প্রকাশ্যে আসা ঠিক নয়।

সোহান-মুশফিকের বিষয়টি যেভাবে প্রকাশ্যে এসেছে, তা মুশফিকের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারের জন্য অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেন মাশরাফী।

নড়াইল এক্সপ্রেস লিখেছেন, ‘১৬ বছর যে মানুষটা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভিস দিচ্ছে, তাকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে আপনি যত বড় ক্ষমতাধর মানুষ হোন না কেন, একটু জায়গা বুঝে বলা উচিত। মুশফিক কিভাবে জাতীয় দলে এসেছে, তা সবাই জানে। সিম্পলি তার ব্যাটিং দক্ষতা।’

‘একটা সময় পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটে শুধু কিপার হিসাবেই খেলা যেত, উদাহরণ ভূরি ভূরি। কিন্তু গিলক্রিস্ট আসার পর সব হিসাব পাল্টে যায়, যার সূত্র ধরে ইন্ডিয়া টিমে দেখেছি রাহুল দ্রাবিড়কেও কিপিং করতে, যাতে দল সুবিধা মতো এক্সট্রা একজন ব্যাটসম্যান বা বোলার খেলাতে পারে। অবশ্যই সেটা লিমিটেড (ওভার ক্রিকেটে)।’

ড্রেসিং রুমের সিদ্ধান্ত ড্রেসিংরুমেই থাকা উচিত উল্লেখ করে মাশরাফী লিখেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেটের দুজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটারকে, সেটা আবার নিজ দলের খেলোয়াড়কে, আপনি যুদ্ধ করে বাঁচতে বলবেন, সেটা ড্রেসিং রুম পর্যন্ত থাকাই ভালো।’

‘টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত তারা তাদের মতো করে নেবে, এটাই তো স্বাভাবিক এবং অবশ্যই ভালোর জন্য নেবে। সফল হলে তালি, না হলে গালি, যা সারা বিশ্বেই হচ্ছে। কে খেলবে, কোন পজিশনে খেলবে, কার রোল কি, এগুলো তো দলের একান্ত পরিকল্পনা, যা ড্রেসিং রুমে শুরু, আবার ড্রেসিং রুমেই শেষ হয়। বাহিরে বলতে গেলে তো খেলোয়াড়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় যা, তার স্বাভাবিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।’

বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াডে এখন তিনজন উইকেটরক্ষক। মুশফিক ও সোহান ছাড়াও রয়েছেন লিটন দাস। আনন্দের এই বিষয়টি কেন বিষাদ হয়ে বেরোচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলে মাশরাফী লিখেন, ‘সোহান সম্ভবত দলের সেরা কিপার। সাথে লিটন, এক সিরিজ গ্যাপে যোগ হলো মুশফিক। এক দলে এত কিপার, এ তো আনন্দের। তা না হয়ে, বের হয় বিষাদ।’

মাশরাফীর শঙ্কা, ‘এতটুকু সামাল দিতে না পারলে তো সমস্যা, যা একপর্যায়ে দলের ভেতর অদৃশ্য এক বাজে প্রতিযোগিতা চলে আসবে।’

‘আমি শুধু ভাবছি এতে কি সোহানের জন্যও খুব ভালো হলো, যে দুই ম্যাচে সব দেখিয়ে টিকে থাকতে হবে, তাহলে বিগত দুই সিরিজ সে যা করল, তার কি হবে! লিটন কি বলবে? এখন ও তো কিপিং ভুলেই যাবে।’

বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়কের পরামর্শ, ‘দলে প্রতিযোগিতা সব সময় দলের সেরাটা বের করে আনে, তবে সেটা সুস্থ হতে হবে। কাউকে আঘাত করে নয়।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com