সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

ভালো নেই পাটি শিল্পীরা

প্লাস্টিক পাটির আধিপত্য আবার করোনা। এই দুই কারণে চরম সংকটে পড়েছেন কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া গ্রামের পাটিকর পাড়ার পাটি শিল্পীরা। এ শিল্পের সাথে জড়িয়ে ৫০টি পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছে আর্থিক সংকটে।

সরেজমিনে পৗরসভার পাটিকর পাড়ায় ঘুরে এ কাজে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা যায়। অনেক পাটি শিল্পীকে দেখা গেছে বাধ্য হয়ে পেশা বদল করতে। পাটি শিল্পীরা জানান, এই পাটি শিল্পের ওপর তারা নির্ভরশীল। এসব পরিবার বংশ পরম্পরায় পাটি বুনে জীবন ধারন করে আসছে। এখান থেকে তাদের যা আয় হতো তা দিয়ে সংসারে পাশাপাশি তাদের সন্তানদের পড়ালেখা ও চলছিল। একদিকে প্লাস্টিকের পাটির কারনে মোত্রা (মোতাকের) চাহিদা কমেছে। অপরদিকে করোনা মহামারি এতে ছন্দপতন ঘটছে তাদের সাংসারিক জীবন।

পাটিকর পাড়ার সুবাস পাটিকর জানান, গত কয়েক বছরে আমাদের মধ্য থেকে অনেকে এ পেশা ছেড়ে দেওয়ায় কাঁচা মালের সংকট কিছুটা কমেছিল। মোত্রা (মোতাক) বাগান পর্যাপ্ত থাকায় দর কষাকষি করে মোতাক কেনা যেত। এ কারণে স্তস্তিতে ব্যবসা চলচিল। কিন্তু প্লস্টিকের পাটি আর করোনায় চরম বিপদে ফেলেছে আমাদের। বোনা পাটি ঘরের মধ্যেই পড়ে আছে। ৫ থেকে ৭ ফুট রঙিন পাটির পাইকারি মূল্য ৪৫০টাকা। আমাদের এই পাটিটি তৈরি করতে ৪০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। আর ৫ থেকে ৭ ফুট শীতল পাটির পাইকারি মূল্য ১৪০০ টাকা। যা তৈরি করতে ১২০০ টাকা খরচ পড়ে।

কৃষ্ণ, অসীম, কানাইলাল, কানাই, বলাই, রতন ইতিমধ্যে পেশা পরিবর্তন করেছেন। বংশ পরম্পরায় এই পাটি শিল্প পরিবর্তন করতে তাদের অনেক কষ্ট লেগেছে। কিন্তু উপায় ছিল না। বাধ্য হয়ে বাপ দাদার পেশা ছেড়ে কেউ ওয়ার্কসপ পেশায়, কেউবা দিন মজুরের কাজ করছেন।

কৃষ্ণ পাটিকরের স্ত্রী শিপ্ররা রানী জানান, ৫ থেকে ৭ ফুট একটি রঙিন পাটি তৈরি করে দিলে মজুরী হিসেবে অমাকে ১২০ টাকা  দেয় মহাজনরা।

কথা হয় সুরেন্দ্র পাটিকরের স্ত্রী মহামায়া, বাসুদেবের স্ত্রী বিমলা, মাখনের স্ত্রী সাবিত্রী, মানিকের স্ত্রী যুমুনা রানীর সঙ্গে। তারা সবাই এ গ্রামের তৃতীয় প্রজন্মের পাটি শিল্পী। পাটি বোনা তাদের রয়েছে বিশেষ দক্ষতা। এক দিনে তারা একটি রঙিন পাটি তৈরি করতে পারেন। আর শীতল পাটি তৈরি করতে একজনের তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যায়। এর চাহিদা ও খুব বেশি। এ থেকে তাদের আয়ও ভালো হয়।

তারা অরো জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা বাড়িয়েছি ।এখন পাটি বিক্রি হচ্ছে না। কিন্তু ঋণের কিস্তি ঠিক মতো দিতে হচ্ছে। সপ্তাহ শেষে কিস্তি সারা সপ্তাহ জুড়ে এই চিন্তায় দিন গুনতে হয়। মাঝে মাঝে কিস্তির টাকা জোগার করতে না পেরে লস দিয়ে আড়দদারের কাছে পাটি বিক্রি করে কিস্তির টাকা জোগার করতে হচ্ছে। সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাবে শীতল পাটি শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। যদি পাটি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হয় তাহলে সহায়তা জরুরি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ বলেন, পাটি শিল্পীদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com