শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

বিশ্বে ৫০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রার দিন বেড়ে দ্বিগুণ

প্রতি বছর কিছু দিন থাকে যখন তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। আশঙ্কার কথা হলো, ১৯৮০ এর দশকের তুলনায় সাম্প্রতিক দশকে এমন দিন দ্বিগুণ হয়েছে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে আগের তুলনায় এমনটা বেশি দেখা যাচ্ছে। যা মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

১৯৮০ থেকে প্রতি দশকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২২ ফারেনহাইট তাপমাত্রার দিন বেড়ে চলেছে। ১৯৮০ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত গড়ে বছরে ১৪ দিন পারদ ৫০ ডিগ্রির বেশি চড়েছিল। কিন্তু ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দিন।

একই সময়ে গড়ে বছরে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বেড়েছে অতিরিক্ত দুই সপ্তাহ।

এমন ঘটনার সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির শতভাগ সম্পর্ক দেখছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এনভায়রনমেন্ট চেঞ্জ ইনস্টিটিউডের সহযোগী পরিচালক ডা. ফ্রেডেরিক অটো।

পুরো বিশ্ব উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চরম তাপমাত্রা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলা থেকে সবুজ ভূমি ক্রমশ শুষ্ক হয়ে উঠবে এর প্রতিক্রিয়ায়। এর সরাসরি ভুক্তভোগী মানুষই।

৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গ্রীষ্মে রেকর্ড ভেঙে ইতালিতে ৪৮.৮ ডিগ্রি ও কানাডায় ৪৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো না গেলে যেকোনো জায়গায় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি পেরোবে।

বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদি তাপমাত্রার হিসাব তুলনা করলে ১৯৮০ থেকে ২০০৯ –এর তুলনায় সর্বোচ্চ .৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়েছে। অবশ্য বিশ্বের সব স্থানে তা সমান নয়। যেমন; পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকার দক্ষিণাংশ ও ব্রাজিলে সবোর্চ্চ ১ ডিগ্রির চেয়ে বেশি এবং আর্কটিক ও মধ্যপ্রাচ্যে ২ ডিগ্রির বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের সম্মেলনে তাপমাত্রার বৃদ্ধি ও কমানোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com