সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

ডলার জোগানোর পরও দর ঊর্ধ্বমুখী

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করার পরও দর বাড়ছে। গত ৫৬ দিনে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর বেড়েছে ৫৫ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল রবিবার ডলারের দর বেড়েছে ৫ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ছিল ৮৫ দশমিক ৩৫ টাকা। গত বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ছিল ৮৫ দশমিক ৩০ পয়সা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমতে শুরু করার পর থেকে ডলারের দর বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নমুখী রয়েছে। ফলে গত ২ আগস্ট থেকে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর বাড়তে শুরু করে। ওই দিন আন্তব্যাংক ডলারের দর ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৪ দশমিক ৮১ টাকা হয়। এরপর থেকে ডলারের দর বেড়ে গতকাল ৮৫ দশমিক ৩৫ টাকায় উঠে আসে।

এর আগে প্রায় ১ বছর ধরে ডলারের দর প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। গত জুলাই মাসের শেষ কর্মদিবসে (২৯ জুলাই) আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী, ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। বিক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিবরণী প্রকাশের পর থেকে ডলারের দর খুব ধীরগতিতে হলেও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে শুরু করে।

কোরবানির ঈদের ১ দিন পর থেকে গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত টানা চলেছে করোনা মহামারী রোধের বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট থেকে করোনাপূর্ববর্তী সময়ের মতো স্বাভাবিক নিয়মে লেনদেন শুরু হয়েছে ব্যাংকে। এর মধ্যেই ডলারের দর বাড়তে থাকে।

এদিকে ডলারের চাহিদা পূরণে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৭০ কোটি ডলার ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে গত অর্থবছরে ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

প্রসঙ্গত, রপ্তানি বাণিজ্যের লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো যেমন ডলার গ্রহণ করে, তেমনি আমদানির প্রয়োজনে ডলার বিক্রিও করতে হয়। বর্তমানে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় আমদানি প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত জুলাইয়ে রপ্তানি প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে আমদানি বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ।

তাছাড়া রেমিট্যান্স কমছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর আগের থেকে বেশি ডলারের প্রয়োজন পড়ছে। এই ডলারের দর স্থিতিশীল রাখাতে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার প্রয়োজন হলে বিক্রিও করে। এটাই আন্তঃব্যাংক ডলারের দর হিসেবে পরিচিত।

আন্তঃব্যাংক ডলারের দর অনুযায়ী ব্যাংকগুলো প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণ করে। গতকাল শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য ১ ডলারের দর রেখেছে ৮৫ দশমিক ৪০ টাকা। তবে বিদেশি ভ্রমণের জন্য নগদ ডলারের দর ছিল ৮৭ দশমিক ৫০ টাকা। তবে ব্যাংকটি বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনে ৮৬ টাকায়।

একই দিন বেসরকারি খাতের ইস্টার্ন ব্যাংক নগদ ডলার ৮৭ দশমিক ৫০ টাকায় বিক্রি করলেও কিনেছে ৮৬ দশমিক ৫০ টাকায়। বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেনে ব্যাংকটি ৮৫ দশমিক ৪০ টাকায় ডলার বেচাকেনা করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৬৮ কোটি ডলার। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৩০ শতাংশ কম। গত ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ৪৫৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল।

তবে অতিসম্প্রতি রেমিট্যান্সে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও গত অর্থবছর জুড়ে করোনা মহামারীর মধ্যেও রেমিট্যান্সে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি ছিল। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ হু হু করে বাড়তে থাকে। গত ২৩ আগস্ট বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন (৪ হাজার ৮০০ কোটি) ডলার ছাড়ায়। তবে এর পরপরই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেনা পরিশোধ করা রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। গত ২২ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ ছিল ৪৬ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com