বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও তফসিল হয়নি। কিন্তু এর আগেই উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্যানেলে নাম অন্তর্ভুক্তি আবেদন ফরম বাবদ সাড়ে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এতে জেলাব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন ইউনিয়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিবপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে জয়নগর, বাঘাব, পুটিয়া, আইয়ুবপুর, দুলালপুর, সাধারচর ও যোশর ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি মাছিমপুর ও চক্রধা ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে শিবপুর পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেগুলোতে এখনও তফসিল ঘোষণা হয়নি। এরই মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্যাডে দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রার্থী প্যানেলে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফরম বিক্রি শুরু করেছেন। আর এই ফরম বাবদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের কাছ থেকে রশিদবিহীন আদায় করা হচ্ছে সাড়ে ১০ হাজার টাকা। গত মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এই ফরম বিক্রি শুরু করেছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন, সহসভাপতি আবদুল মান্নান শেখ, কামাল হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম ফরম সংগ্রহ করেছেন।
জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবু হানিফ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে আমাদের ইউনিয়নের জন্য ৮টি প্রার্থী প্যানেলে নাম অন্তর্ভুক্তকরণ আবেদন ফরম পাঠিয়েছে। সাড়ে ১০ হাজার টাকা করে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ৪টি ফরম বিক্রি হলেও বুধবার একটিও হয়নি। ফরম বিক্রির টাকা কী হবে বা কে নেবে তার কোনো নির্দেশনা উপজেলা আওয়ামী লীগ দেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ জেলা কিংবা কেন্দ্র কারো হাতে নেই। এখানে সভাপতি হারুনুর রশীদ খানের একক নিয়ন্ত্রণে উপজেলা আওয়ামী লীগ পরিচালিত হচ্ছে। ওনার সিদ্ধান্ত দলীয় গঠনতন্ত্রের উর্ধ্বে। তাই ওনার যখন যা ইচ্ছা তাই করছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূইয়া রাখিল বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এই ফরম বিক্রি করবে। ফরম বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তফসিলের পর কেন্দ্র থেকে খুব অল্প সময় বেঁধে দেয়। তাই আমরা আগে থেকেই সবকিছু গুছিয়ে রাখছি। আর টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চাঁদার রশিদ দেওয়ার কথা।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিএম তালেব হোসেন বলেন, শিবপুরের বিষয়টি আমি শুনেছি। দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রার্থী প্যানেলে নাম অন্তর্ভুক্তকরণ কোন ফরম আছে কিনা কিংবা তার জন্য কোনো অর্থ আদায় করা যাবে- এমন কোন তথ্য আমার জানা নেই। যেহেতু এই কর্মকাণ্ডটি গঠনতন্ত্র বহির্ভূত সেহেতু বিষয়টি অনৈতিক। তারা সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে টাকা আদায় করছেন। আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।