বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০১:১৩ অপরাহ্ন

১২০০ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবার দরজা বন্ধ

নওগাঁর নিয়ামতপুরের শিবপুর ইউনিয়নে বছর দুয়েক আগে নির্মাণ করা হয় ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি তিনতলা এই কেন্দ্রটি এখনো চালুই করা যায়নি। কারণ যাঁরা চালাবেন তাঁরা কেউ নেই। পদায়ন হয়নি। এই জেলায় এমন স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে আরো তিনটি। একটি এখনো বুঝে পায়নি জেলা পরিবার কল্যাণ দপ্তর। বাকি দুটি বুঝে পেলেও নেই জনবল। মাঝে মধ্যে আশপাশের অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দু-একজন কর্মী ডেকে এনে জরুরি কাজ সারা হয়।

শুধু নওগাঁ নয়, আরো কয়েকটি জেলায় নতুন নির্মিত এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিত্র এমনই। পরিসর বাড়িয়ে নতুন নকশায় প্রায় ১০০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্মাণকাজ হলেও খালি পড়ে আছে। আর আগে করা দোতলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রায় ১২০০ পরিত্যক্ত বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। নতুনগুলো যেমন চালু করা যাচ্ছে না জনবলের অভাবে, তেমনি পুরনোগুলোও জনবলের অভাবে অচল থাকতে থাকতে ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. কস্তুরি আমিনা কুইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভবনগুলো খুবই সুন্দর। ভেতরে আসবাব-যন্ত্রপাতি সবই আছে। কিন্তু জনবল নেই। চালাব কী করে। শুধু নতুনগুলোই নয়, পুরনোগুলোও জনবলের অভাবে চালাতে হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। পরিত্যক্ত কোনো কোনো পুরনো ভবন আবার তৈরির প্রস্তাব মাঠ পর্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’

তিনতলা নতুন ভবনগুলোতে চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রহরী পর্যন্ত সবার জন্য আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। পুরনো ভবনগুলোতেও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক (এফডাব্লিউভি) থাকার জন্য আলাদা কক্ষ আছে। কিন্তু তাঁদের বেশির ভাগই থাকছেন না। এ ছাড়া দালালের খপ্পরে পড়ে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে চলে যাওয়াও এসব কেন্দ্র অচল হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।

মাঠ পর্যায়ে আগে করা কেন্দ্রের নাম দেওয়া হয়েছিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। আর নতুন ১০ শয্যার কেন্দ্রের নাম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে দেওয়া হয় বিনা মূল্যে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভবতী সেবা, গর্ভোত্তর সেবা, এমআর (মাসিক নিয়মিতকরণ) সেবা, সাধারণ রোগীর সেবা, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের সেবা, প্রজননতন্ত্রের যৌনবাহিত রোগের সেবা, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাস্তবায়ন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ দান, খাবার বড়ি, জন্মনিরোধক, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক শিক্ষামূলক সেবা।

নতুনভাবে করা কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে দুইজন মেডিক্যাল অফিসার, চারজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক (এফডাব্লিউভি), একজন ফার্মাসিস্ট, একজন কম্পিউটার অপারেটসহ ১৪ জনের জনবল কাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন রাজস্ব খাতে আর চারজন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করার কথা।

পুরনো কেন্দ্রগুলোতে স্যাকমো ও এফডাব্লিউভির পদ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে একজন মেডিক্যাল অফিসার সপ্তাহে দুই দিন গিয়ে রোগী দেখার কথা।

বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘খুবই মায়া লাগছে ভবনগুলোর পরিত্যক্ত অবস্থা দেখে। তাই মাঝে মধ্যে চেষ্টা করছি বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন ধার করে হাসপাতালগুলো একটু খোলা রাখার। রোগীও ডেকে আনার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের সব জায়গায়ই একই অবস্থা, কোত্থেকে কতজন আনব।’ বরিশালে এখন পর্যন্ত ১০ শয্যার ৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বুঝে পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য জনবল তো দূরের কথা, একজন গার্ড পর্যন্ত নেই—যে এই ভবনগুলো অন্তত পক্ষে পাহারা দিয়ে রাখবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com