শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে রোকেয়া বেগম (৩২) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রবিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রোকেয়া বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. শাকিল মিয়ার স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।
জানা গেছে, করোনা উপসর্গ নিয়ে গত শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রোকেয়া বেগমকে কুমুদিনী হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রবিবার তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রোকেয়া বেগম দুই সন্তানের জননী। স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী শাকিলের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এদিকে, রোকেয়ার মৃত্যুর জন্য হাসপাতালটির এক নার্সের বিরুদ্ধে ভুল ওষুধ সেবন করানোকে দায়ী করেছেন স্বামী শাকিল মিয়া। তিনি জানান, তিনি একজন পোশাক শ্রমিক। রবিবার দুপুরে হাসপাতালের এক নার্সের সঙ্গে তাঁর বাক-বিতণ্ডা হয়। সন্ধ্যা ৭টায় স্ত্রী রোকেয়াকে ভালো রেখে বাসায় যান। রাতে হাসপাতাল থেকে তাঁকে মুঠোফোনে কল দিয়ে হাসপাতালে আসতে বলা হয়। তিনি রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে আসেন। পরে কর্তব্যরত এক নার্স তাঁকে রিওয়াট একটি সিরাপ আনতে স্লিপ ধরিয়ে দেন। তিনি কুমুদিনী ফার্মেসি থেকে ১২০ টাকা দিয়ে সিরাপটি এনে দেন। সিরাপটি খাওয়ানোর সাথে সাথে স্ত্রীর মুখ বাকা হয়ে মুহূর্তেই মারা যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কুমুদিনী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, রোকেয়া বেগমকে করোনা উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। রোগীর পায়খানা শক্ত হলে রিওয়াট সিরাপ দেওয়া হয়। তবে রোকেয়ার চিকিৎসাপত্রে রিওয়াট সিরাপটি কে দিয়েছে আমার জানা নেই। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ওয়ার্ডে আসেন বলে জানান ডা. মাসুদুর।
কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম অনিমেষ ভৌমিক লিটনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বলেন, ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে রোকেয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। পায়খানা শক্ত বা পায়খানা না হলে রিওয়াট সিরাপ খাওয়ানো হয়।’