মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন

মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশের চাপ, বোর্ডের অসন্তোষ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ঘাম ছুটছে দলটির মনোনয়ন বোর্ডের নেতাদের। একেকটি ইউনিয়ন পরিষদে গড়ে পাঁচজনের বেশি মনোনয়ন চান। এর ওপর রয়েছে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পছন্দের লোককে মনোনয়ন দেওয়ার চাপ। এ নিয়ে গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ক্ষোভ জানিয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ। সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। আজ আবারও মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, প্রতিটি উপজেলায়ই প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের নানা সুপারিশ থাকছে। পছন্দের প্রার্থীর মনোনয়নের জন্য মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের কাছে কেউ লিখিত সুপারিশ করেছেন, কেউ আবার অপছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিতে জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন। গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিনই মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিনই মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের কাছে অনেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের অনুরোধ থাকছে। মনোনয়ন বোর্ডে সে সুপারিশ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনাও করা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের এসব সুপারিশের বিষয়ে গতকাল মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ক্ষোভ জানান বোর্ডের সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ। তিনি বলেন, ‘এমপি, মন্ত্রীরা যদি এত সুপারিশ করেন, যদি তাঁরাই বলে দেন—একে দিলে ভালো হয়, ওকে দেওয়া যাবে না, তাহলে আমাদের নিয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সভা করে লাভ কী? আমরা এখানে কী করব?’

সভায় উপস্থিত একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাজী জাফর উল্যাহ অসন্তোষ জানানোর পর মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের কেউই কোনো উত্তর দেননি।’

জানতে চাইলে কাজী জাফর উল্যাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী ও এমপি প্রার্থীদের পক্ষে সুপারিশ করছেন। সেই বিষয়টিই মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তুলে ধরেছি।’

অভিযোগ পেলে প্রার্থী পরিবর্তন

গত পাঁচ দিনে দেশের সাত বিভাগের ইউনিয়নগুলোতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এসব ইউনিয়নে মনোনয়ন পাওয়া অনেকের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড এসব অভিযোগের কোনোটির সত্যতা মিললে সেখানে প্রার্থী পরিবর্তন করে দিচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের তিনটি ইউনিয়নে প্রার্থী পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, গতকাল মনোনয়ন বোর্ডের সভায় নড়াইল সদরে বিছালি ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। শনিবার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ইউনিয়নটিতে মনোনয়ন দেওয়া হয় মো. ইমরুল গাজীকে। গতকাল সভায় ইমরুল গাজীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তথ্য-প্রমাণসহ উত্থাপিত হয়। অভিযোগগুলো বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়ায় মনোনয়ন পরির্তন করে এস এম আনিসুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক ইউনিয়নেই বহু অভিযোগ এসে জমা হচ্ছে। এসব অভিযোগের বেশির ভাগই সত্য নয়। যাঁরা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা ঢালাও অভিযোগ আনছেন। তবে কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রার্থী পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে। সামনে আরো দু-একটি ইউনিয়নে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com