বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
বঙ্গভ্যাক্স উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের টিকার অ্যানিমেল ট্রায়ালের প্রতিবেদন বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) জমা দিয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।
সোমবার বিএমআরসিতে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। গ্লোব বায়োটেকের দাবি, সম্প্রতি বিএমআরসির নির্দেশনা অনুসারে বানরের দেহে চালানো পরীক্ষায় করোনার টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ শতভাগ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর গ্লোব বায়োটেকের সিনিয়র ম্যানেজার (কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি) ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, দ্রুত তাদের পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ মানবদেহে টিকাটির পরীক্ষা চালানো হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গভ্যাক্স টিকাটি প্রাকৃতিক বিশুদ্ধ এমআরএনএ (মেসেঞ্জার রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) দিয়ে তৈরি, তাই এটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। টিকাটি এক ডোজের। টিকাটি অনুমতি পেলে বিদেশেও চাহিদা তৈরি হবে।
তিনি জানান, ইঁদুরের দেহে টিকাটি পরীক্ষা করে ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা মিলেছিল। টিকাটি শতভাগ নিরাপদ বলেও প্রমাণিত হয়। পরে বিএমআরসির নির্দেশনা অনুসারে বানরের দেহে পরীক্ষা চালানো হয়। প্রাথমিক ফলাফলে টিকাটি বানরের দেহে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম হয়! এরপর বানরের দেহে আরেক দফা পরীক্ষা চালানো হয় যাকে বলা হয় চ্যালেঞ্জ ট্রায়াল। এই পরীক্ষায় করোনার কতটি ভেরিয়েন্টে বঙ্গভ্যাক্স কাজ করে তা দেখা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত করোনার যতগুলো ভেরিয়েন্ট এসেছে তার সব কটিতেই টিকাটি শতভাগ কার্যকর।
জানা যায়, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার পর দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড ২০২০ সালের ২ জুলাই দেশে প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) রোগের টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। এর প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় ১৫ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেকের তিনটি টিকাকে (ডি সিক্স ওয়ান ফোর জি ভেরিয়েন্ট এমআরএনএ ভ্যাকসিন (D614G), ডিএনএ প্লাজমিড ভ্যাকসিন এবং অ্যাডনোভাইরাস টাইপ-5 ভেক্টর ভ্যাকসিন) সম্ভাব্য টিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গ্লোব বায়োটেকই বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যাদের সর্বোচ্চ তিনটি ভ্যাকসিনের নাম তালিকায় রয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রাণিদেহে পরীক্ষা ও আনুষঙ্গিক গবেষণা শুরু করে। প্রথমে তারা ইঁদুরের দেহে বঙ্গভ্যাক্স টিকার পরীক্ষা চালায়। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নীতিগত পরীক্ষার জন্য বিএমআরসির কাছে প্রটোকল জমা দেয়া হয়। এরপর বিএমআরসির চাহিদা অনুযায়ী সংশোধিত প্রটোকল জমা দেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। গত ২২ জুন বিএমআরসি মানবদেহে বঙ্গভ্যাক্সের পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেয়, যদিও এর আগে বানর বা শিম্পাঞ্জির দেহে পরীক্ষা করার শর্ত দেওয়া হয়। গত ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি বানরের দেহে পরীক্ষা শুরু করে, যা শেষ হয় ২১শে অক্টোবর।