বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আফগান তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ বলেছেন। শনিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ নভেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাসান আখুন্দের এই অডিও ভাষণ প্রচার করা হয়। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এই প্রথম তিনি ভাষণ দিলেন।
গত আগস্টে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এবং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দোহায় বৈঠকের আগে প্রথমবার এমন ভাষণ দিলেন হাসান আখুন্দ।
এই ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার অনুরোধও জানান আফগান প্রধানমন্ত্রী।
আফগানিস্তান নানা ধরনের সংকট পার করলেও তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের সহযোগী ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা মোল্লা হাসান আখুন্দ এত দিন চুপ ছিলেন। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল। তারপরই তার প্রায় ৩০ মিনিটের এই অডিও ভাষণ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হলো।
ভাষণে আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব দেশকে আশ্বাস দিচ্ছি যে, তালেবান কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না। আমরা সব দেশের সঙ্গে ভালো বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে বলছি, সহায়তা আটকে রাখবেন না। যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত এ জাতিকে সহযোগিতা করুন, যাতে জনগণের সমস্যার সমাধান হয়।
তালেবানরা গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই দেশটিতে মূদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব বেড়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাত একেবারেই ধসে পড়েছে বলা চলে। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ১০ বিলিয়ন সম্পদ জব্দ করার পরে আর্থিক সংকট আরও বেড়ে যায়। এর পর বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আফগানিস্তানের তহবিলে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান তালেবানের শাসনে ছিল। এর মধ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদার নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট সেখানে হামলা চালায়, যার মাধ্যমে তালেবান শাসনের অবসান ঘটে। এরপর গত ২০ বছর দেশটি মার্কিন দখলদারিত্বে ছিল।
হাসান আখুন্দ তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানের শাসনকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায়ও ছিল তার নাম।
জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে যে, আফগানিস্তানে একটি বড় মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে, দেশটির প্রায় ৪ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি এই শীতে খাদ্য সংকট ও তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি আফগানদেরকে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কিনতে অর্থ সংগ্রহের জন্য তাদের গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করতে বাধ্য করেছে।
তালেবানরা দেশটির শাসক হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য সংগ্রাম করার পাশাপাশি তাদের চেয়েও আরও বেশি কট্টর জিহাদি গোষ্ঠী ইসালামিক স্টেট (আইএস) এর কাছ থেকেও কঠোর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তালেবানরা ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই আইএস বেশ কয়েকটি নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন-তালেবান আলোচনায় আইএস এবং আল-কায়েদার হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার মতো বেশ কয়েকটি বিষয়ের সমাধান করা হবে।
২০ বছরের যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনের হয়ে কাজ করা মার্কিন নাগরিক এবং আফগানদের জন্য কীভাবে আফগানিস্তান থেকে নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে তালেবানকে যে কোনো আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তার বিষয়টি কিছু শর্তের উপর নির্ভর করছে। যেমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং শিক্ষা সহ সংখ্যালঘু, নারী ও মেয়েদের অধিকারকে সম্মান করা। মার্কিন সহায়তা পেতে হলে তালেবানদেরকে এই শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।
তালেবানের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ বলেছেন, মেয়েদের শিক্ষা অনেকাংশে আবার শুরু হয়েছে এবং আশা করা যায় যে নারী শিক্ষার সূযোগ আরও সহজতর হবে এবং ইসলামী নীতি অনুসারে পরিচালিত হবে।