সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন

২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন

আগামী ২৮ ফেব্রয়ারির মধ্যে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ শুক্রবার ঢাকা কলেজের ‘শহিদ আ.ন.ম. নজিব উদ্দিন খান খুররম’ মিলনায়তনে সমিতির এক জরুরি সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার।

সভায় গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইমান আলী নির্বাচন কমিশনার ও রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবেদা সুলতানাকে সহকারী কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণে প্রয়োজনে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

সাংগঠনিক শূন্যতাপূরণ ও নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতার জন্য পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এর পরিচালক ও সমিতির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীরকে আহবায়ক, ঢাকা কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ড. মো. আব্দুল কুদ্দুস সিকদারকে যুগ্ম আহবায়ক এবং মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর আলীকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় তিন সদস্য বিশিষ্ট নিরীক্ষা কমিটিও গঠন করা হয়।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি কর্তৃক আয়োজিত ‘জরুরি সাধারণ সভা’ সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর আলী। সকাল ১০টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ওয়ায়েছ আলকারনী এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন টুটুল কুমার নাগ।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্যদের মধ্যে সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক মাসুমে রব্বানী খান, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এর পরিচালক ও সমিতির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীর, সরকারি স্কুল উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন, শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহসিন কবীর, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক বেলা রানী সিংহ, বিপুল চন্দ্র সরকার, ফাতিহুল কাদির সম্রাট, তানভীর আলম, জিয়া আরেফিন আজাদ, নাসির উদ্দিন, তাজিব উদ্দিন, মুকিব মিয়া, কায়সুল বারী, আহমেদ জাফর সাদিক, শেখ নূর কুতুবুল আলম, শাহিনুল ইসলাম, এস এম কামাল আহমেদ, শওকত হোসেন, অলিউর রহমান, এনামুল হক, মুক্তার আহমেদসহ দেশের বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন দপ্তর ও কলেজের কর্মকর্তাগণ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা দীর্ঘদিন যাবত সমিতির নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতিকে কার্যকর করার লক্ষ্যে জরুরি সাধারণ সভা অপরিহার্য ছিল বলে মত প্রকাশ করেন। শিক্ষা ক্যাডারে পদ সৃষ্টি, পদ আপগ্রেডেশন, পদসোপান, পদোন্নতি, অর্জিত ছুটিসহ ক্যাডারের সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ জরুরি সাধারণ সভা আহবান করায় উপস্থিত বক্তাগণ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

সর্বশেষ কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১ জুন। দ্বিবার্ষিক এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৮ সালের ১৪ জুন। এরপর কোনো নির্বাচন ছাড়াই প্রায় সাড়ে তিন বছর পার করছে সমিতি।

সমিতির গঠনতন্ত্রের ধারা-৮ এ বলা হয়েছে, দুই বছরের দায়িত্ব গ্রহণ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে দুই মাস করে চার মাস সময় নিতে পারবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপরও নির্বাচন না হলে বিলুপ্ত হবে কমিটি। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ২০ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি তিন মাসের মধ্যে তফসিল ও ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করবে। অন্যথায় সাধারণ সভা বা জরুরি সভা আহবান করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই জরুরি সভা আহ্বান করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলো এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com