সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:০২ অপরাহ্ন

ভার্চ্যুয়াল আদালতে ফেরার ইঙ্গিত প্রধান বিচারপতির

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ফের ভার্চ্যুয়াল আদালতে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। আজ মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের বিচার কাজের শুরুতেই তিনি এ ইঙ্গিত দেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘চারদিকে যে অবস্থা (করোনা সংক্রমণ) দেখছি, এরই মধ্যে আমাদের ১৩ জন বিচারপতি (সুপ্রিম কোর্টের) ও নিম্ন আদালতের ৩৬ জন বিচারক আক্রান্ত হয়েছেন। অনেক স্টাফও আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা হয়ত আবারও ভার্চ্যুয়াল কোর্টে ফিরে যাব। ভার্চ্যুয়াল কোর্টে যে মামলা নিষ্পত্তি কম হয়, তা নয়। বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবছি আমরা।’

তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বেশ কয়েকজন আইন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এসময় আইনজীবী নজরুল ইসলাম চৌধুরী জীবন গুরুত্ব বিবেচনায় অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।

নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকার পর গত ১ জানুয়ারি ৩৭০ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৬ জানুয়ারি তা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। পরে গত ১০ জানুয়ারি তা দুই হাজার এবং এরপর তিন দিনের মাথায় গত ১৩ জানুয়ারি তিন হাজার ছাড়িয়ে যায়। সোমবার ৬ হাজার ৬৭৬ জনের সংক্রমণের খবর আসে।

২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সব আদালতেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময় দেশের বিচার ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পক্ষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়ে আইন হয়। ১১ মে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম ভার্চ্যুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমতে থাকলে প্রথমে কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে নিম্ন আদালতের কার্যক্রম চালু করা হয়। পরে হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চেও শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চালু করা হয়। পাশাপাশি ভার্চ্যুয়াল আদালতও চালু থাকে।

তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত, অর্থাৎ আপিল বিভাগ এবং চেম্বার আদালত ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মেই চলে আসছিল। দেড় বছরের বেশি সময় এ প্রক্রিয়ায় বিচারকাজ চলার পর গত ১ ডিসেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্টে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কাজ শুরু হয়। তবে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ভার্চ্যুয়ালি চালানোর সিদ্ধান্ত আসে। সপ্তাহে চারদিন (রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধবার) ভার্চ্যুয়লি বিচারকাজ পরিচালনা করবেন চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এমন প্রেক্ষপটে সোমবার ভার্চ্যুয়াল আদালতে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন প্রধান বিচারপতি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com