রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
ইউক্রেনে নতুন কোনো সামরিক কর্মকাণ্ড শুরু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে সংকট নিরসনে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে।
ইউক্রেন সংকট নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মস্কোয় এক বৈঠক করার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও বলছেন, উত্তেজনা হ্রাসের ক্ষেত্রে আগামী কয়েকটি দিন হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ওই বৈঠকের পর ভ্লাদিমির পুতিন নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন কিছু অগ্রগতি হয়েছে। খবর বিবিসির।
গত কয়েক মাসে ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া প্রায় এক লক্ষ সৈন্য মোতায়েন করেছে এবং আশংকা ছড়িয়ে পড়েছে যে তারা ইউক্রেনে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে, যদিও রাশিয়া এ কথা অস্বীকার করেছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে রাশিয়া এই নিশ্চয়তা চাইছে যে ইউক্রেনকে যে কখনো নেটো সদস্য করা হবে না এবং পূর্ব ইউরোপে নেটোর সামরিক উপস্থিতি কমাতে হবে- যদিও মার্কিন নেতৃত্বাধীন নেটো এমন কোন নিশ্চয়তা দিতে রাজি নয়।
যেকোনো মুহুর্তে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে দিতে পারে এ আশংকার মধ্যেই এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন। মস্কো থেকে ম্যাক্রোঁ ইতোমধ্যে কিয়েভে পৌঁছেছেন এবং সেখানে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে বৈঠক করবেন।
পুতিনের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করার পর ম্যাক্রোঁ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী কয়েকটি দিন হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্য ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন হবে যা তারা একসাথেই করবেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ম্যাক্রোঁ যে সব প্রস্তাব দিয়েছেন তা ‘আরো কিছু যৌথ পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে’, তবে তিনি এও বলেন যে সেগুলো নিয়ে কথা বলার সময় হয়তো এখনো আসেনি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেইন সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা জড়ো করার পর ম্যাক্রোঁই পশ্চিমা দেশগুলোর প্রথম শীর্ষ নেতা, যার সঙ্গে পুতিনের বৈঠক হল।
ইউক্রেইনে আগ্রাসন চালাতেই রাশিয়া লাখখানেক সৈন্য প্রস্তুত রেখেছে বলে আশঙ্কা পশ্চিমা দেশগুলোর।
মস্কো প্রথম থেকেই ইউক্রেইনে তাদের হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে; যদিও তারা বলছে, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি না মানলে মস্কো সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে সে পদক্ষেপ কেমন হতে পারে, তার কোনো ধারণা দেয়নি তারা।