শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

১২ ঘণ্টার অপারেশনে আলাদা হলো লাবিবা-লামিসা

সফলভাবে পৃথক করা হয়েছে জোড়া শিশু লাবিবা-লামিসাকে। দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় তাদের আলাদা করা হয়। পরে তাদের রাখা হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। শিশু দুটির বয়স প্রায় তিন বছর।

সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে এ অস্ত্রোপচার। এরপর রাতে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন চিকিৎসকরা।

মেডিকেল বোর্ড ও শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফ উল হক কাজল বলেন, ৩৮ জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে এ অস্ত্রোপচার করা হয়। সকাল ৮টায় তাদের ওটিতে নেয়া হয়। এরপর সকাল পৌনে ৯টায় তাদের এনেস্থেসিয়া দিয়ে বেহুশ করা হয়।

তিনি বলেন, এ অপারেশনে আমাদের দুই চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথমটি হলো, তাদের যোনীদ্বার, পায়ুপথ ও মুত্রনালী খুবই কাছাকাছি ছিল। সেগুলো আলাদা করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ, তাদের দুজনেরই মেরুদণ্ডের নিচের অংশ জোড়া লাগান। সেখানে কোনো আঘাত লাগলে প্যারালাইড হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে তাদের আলাদা করা হয়। আলাদা করার পরই তারা পা নাড়িয়েছে। এরপর তাদের আলাদা দুটি অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাকি কাজ করে ৮টা ২০ মিনিটে অপারেশন শেষ হয়। জ্ঞান ফিরেই লাবিবা ‘ও কই ও কই’ বলে তার বোন লামিসাকে খুঁজতে থাকে।

তিনি বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার তাদেরকে মুখে খেতে দেওয়া হবে। তাদের জন্য প্রথম ৪৮ ঘণ্টা খুবই ক্রিটিক্যাল। অপারেশনের এই ধকল সামলাতে তাদের কিছুটা সময় লাগবে। লামিসার মাসিকের রাস্তায় পরবর্তিতে ৩ থেকে ৬ মাস পর আরো কাজ করতে হবে।

এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর তাদের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। জটিলতা এড়াতে সেদিন করা হয়নি পৃথকীকরণ।

এনেস্থেসিওলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোছলেমা বেগম নার্গিস বলেন, অপারেশনের পর প্রথমে লাবিবার জ্ঞান ফেরে। এর কিছুক্ষণ পর

লামিসার জ্ঞান ফিরেছে। তারা দুজনই ভালো আছে।

ঢামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আশরাফুল আলম বলেন, আমরা ঢাকা মেডিকেলকে মানুষের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে নিতে কাজ করছি। এ রকম সফল অস্ত্রোপচার আমাদের আরো এগিয়ে নেবে।

মেডিকেল বোর্ডে শিশু সার্জারি বিভাগ ছাড়া আরো ছিলেন, নিউরোসার্জারি, প্লাস্টিক সার্জারি, রেডিওলোজি, ইউরোলোজি, অর্থোপেডিকস, সার্জারি ও এনেস্থেসিওলোজি বিভাগের চিকিৎসকরা।

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার যদুনাথ পাড়া গ্রামের লাল মিয়া ও মনুফা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় শিশু দুটি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com