রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
প্রতি বছর দেশে গ্রীষ্ম, সেচ ও রমজানে বিদ্যুতের চাহিদা অন্য সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা থাকে সাড়ে ১২-১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও বেড়ে যায়। তবে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায় দেশের বেশির ভাগ জেলায় এ সমস্যার সমাধান হলেও বিকল্প চিত্র রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেলে এ তিন বিভাগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরমে পৌঁছে যায়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
এসব অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি গ্রীষ্ম, সেচ ও রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। দিন ও রাতে ৮-১০ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। বিশেষ করে ইফতার ও সাহরিতে বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন তারা।
বিদ্যুতের এমন বিভ্রাট এসব অঞ্চলের শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে সেচকাজেও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদ ঘিরে ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তি বেড়েছে।
এদিকে, ৭ এপ্রিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। পিডিবির তথ্য বলছে, ওইদিন রাত ৯টায় ১৪ হাজার ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড করা হয়। তবে এ অবস্থার বিপরীতে বড় নেতিবাচক চিত্র হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারা।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রমজানের শুরুতে বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানায় ছয়টি গ্যাস কূপের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তার প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ অঞ্চলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। ফলে সেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি হয়েছে। এছাড়া জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেয়ায় প্রভাব পড়েছে রাজশাহী ও রংপুরে।