শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন
‘আমরা এখন টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেছি, এর থেকে সামনে এগোতে হবে’ বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর এই সামনে এগোনো আর হয় না। ২০১৯ থেকে তিন বছরেরও বেশি সময় বাংলাদেশ দলকে দেখছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় ছাড়া শুধু নিউজিল্যান্ডকে হারানোর সাফল্য তার খাতায় আছে। এছাড়া হতাশা আর আশায় দিন গোনাই সারা। টেস্টে কেন অগ্রগতি নেই এর উত্তরে শুধু গালভরা প্রতিশ্রুতি। এরপর প্রতি সিরিজে সেই একই ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং সিরিজ হার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আরেকটি ব্যর্থতার দিন শেষে ডমিঙ্গোর উপলব্ধি ছোট ভুল মুছে ফেলা আর টেস্ট সিরিজ জয়ের অভ্যাস না গড়ে উঠলে উন্নতি কখনই ধরা দেবে না।
বাংলাদেশের জন্য সমস্যাটা অন্যরকম। বারবার নতুন ভুল সামনে আসায় তা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। কোনো টেস্টে ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে যে কাজ করবে সেই সুযোগ নেই। কারণ, ভুলের সাগরে ডুবে থেকে ভালো করার সুযোগটাই আসে না। তাই টানা ভালো করার আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয় না। ডমিঙ্গোর ব্যাখ্যা, ‘শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেট হারানোর পরও চট্টগ্রামে শেষ পর্যন্ত ড্র করেছে। উইন্ডিজ আমাদের ৪০০ (৩৯৫) রানের লক্ষ্য তাড়া করল। পাকিস্তানের সঙ্গে ১৮০ রানে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ বাঁচাতে পারিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো অবস্থানে থেকে ব্যর্থ হয়েছি ইয়াসির রাব্বির রান আউটে। আমরা ভালো অবস্থানে যাচ্ছি, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসব ছোট ভুল সব শেষ করে দিচ্ছে। ভালো করার আত্মবিশ্বাসটা তৈরি হতে ভালো কিছু ম্যাচ জিততে হয়। কিন্তু আমরা তা পারছি না। এই টেস্টে প্রথম ইনিংসে খুব খারাপ অবস্থা থেকে ফিরেছি, তবে একই ভুলে ফেরাটা আরও এগিয়ে নিতে পারছি না।’
সমশক্তির শ্রীলঙ্কা বলেই এ সিরিজ জয়ের খুব ভালো সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। ছিল প্রত্যাশাও। তা হয়নি অনভিজ্ঞতার কারণেই। ডমিঙ্গো শিষ্যদের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন এই সিরিজটি জিতে দেখানোর, যা হতো জিম্বাবুয়ের বাইরে প্রথম কোনো ওপরের র্যাংকিংয়ের দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়। এই সিরিজে জিতলে টেস্ট মানসিকতা অনেক বেড়ে যেত বাংলাদেশের, সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও। কিন্তু দিন শেষে সেই হতাশাই সঙ্গী। দুই টেস্ট মানে পুরো ১০ দিন খেলতে না পারার ব্যর্থতা ডমিঙ্গোর কাছে এমন, ‘টেস্ট মানসিকতা বা সংস্কৃতিটা আসে ভালো পারফরম্যান্স থেকে। যখন বড় দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতব তখন টেস্টের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। এক-দুটি টেস্ট জয় কখনই লম্বা ফরম্যাটে মানসিকতা বদলাতে সাহায্য করবে না। এক ম্যাচ জিতে খুশি থাকলে সামনে এগোনো খুব কঠিন।’
এ ক্ষেত্রে ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে এগোনো যাওয়ার পথ আছে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্পিনসহায়ক উইকেট করে মিলেছে সফলতা। আবার চট্টগ্রামে ব্যাটিং উইকেট করে শ্রীলঙ্কার সঙ্গেই ম্যাচ ড্র করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ডমিঙ্গো মনে করেন এভাবে পরিকল্পনা করলে কখনই টেস্টে উন্নতি সম্ভব নয়। টেস্ট জিততে হলে ভালো উইকেটেই লড়তে হবে, ‘এমন করলে হয়ত একটি টেস্ট জিতবেন, কিন্তু দলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি হবে না। আমরা যদি নিজেদের সুবিধামতো উইকেট বানিয়ে খেলতে চাই, তবে বলে দিচ্ছি বিদেশে কোনো সুযোগ নেই ভালো করার।’ আগের ম্যাচগুলোর উদাহরণ টেনে কোচ বলেন, ‘এতদিন ভালো উইকেটে যতগুলো ম্যাচ হেরেছি… শুনতে খারাপ শোনালেও আমি বলব ওই উইকেটগুলো ঠিক ছিল। আমরা ভালো উইকেটে গেলেই দ্বিতীয় হই। এটা মানতে হবে টেস্টে উন্নতি করতে হলে ভালো (স্পোর্টিং) উইকেটেই খেলতে হয়। জানি সবাই জিততে চায়। কিন্তু বিপক্ষকে ১০০তে অলআউট করে আমরা ১১০-এ গুটিয়ে গেলে ভালো কী? এর থেকে দলের তো কোনো উন্নতি হচ্ছে না। যে ম্যাচগুলো জিতেছেন ওগুলো কিন্তু সিরিজ ড্র হয়েছিল। আবারও বলছি সিরিজ জয় ছাড়া টেস্ট সংস্কৃতির উন্নতি হবে না।’