মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
সম্পর্কটা পেরিয়ে গেছে প্রায় ১২ বছর। তবুও যেনো দু’জনের মধ্যে বিশ্বাস,ভালবাসার ছিলনা কমতি। এত বছরের সম্পর্কে ঘর আলোকিত করে এসেছিল দুটি সন্তানও, কিন্তু হঠাৎ করে আসা এক দমকা হাওয়া বদলে দিল সবকিছু। ঘরের এক কোণের জানাল দিয়ে পালিয়ে গেলো সব ভালবাসা ও বিশ্বাস।
২০১০ আফ্রিকা বিশ্বকাপে শাকিরার গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান সমাদৃত হয়েছিল সারা বিশ্বে। এই গানের শুটিং স্পটেই শাকিরার সঙ্গে পরিচয় হয় পিকের। এরপর মন দেওয়া নেওয়া, ভালবাসা আদান প্রদান। দুজনের কাছে আসা। এভাবেই পেড়িয়ে গেছে প্রায় ১২টা বছর। বয়সে দশ বছরের বড় শাকিরার সঙ্গে কত-শত সুখের মুহূর্ত পার করেছেন পিকে এর কোনো ইয়াত্তা হয়তো নেই।
ইউরোপীয় ফুটবল হোক কিংবা অন্যান্য ক্রীড়ার জগত সর্বত্রই বিরাজমান ‘পরকীয়া’ প্রেম। বলা ভালো ক্যান্সার রোগের মতন আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ধরেছে এই সমস্যা। সেই ‘পরকীয়া’ প্রেমের জেরেই ভেঙ্গে গেল পিকে ও শাকিরার এক দশকের অধিক সময়ের সংসার। বেশ কিছুদিন ধরেই স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর ছিল পরকীয়া প্রেম ডুবেছেন পিকে। কোনো এক যুবতীর সঙ্গে মন আদান-প্রদান চালিয়েছেন স্প্যানিশ এই ফুটবলার। খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে মেলা মেশাও করছেন তারা। আর বিষয়টি জানতে পারেন শাকিরা। স্প্যানিশ গণমাধ্যম বলছে, পিকের এমন কর্মকাণ্ডের সব প্রমাণ আছে শাকিরার কাছে। তাই সংসারে ধরেছে ফাটল। একসঙ্গে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন শাকিরা।
পিকের এমন কর্ম-কাণ্ড শাকিরা জানতে পারার পর এক সপ্তাহ ধরে নাকি আলাদা থাকছেন এই বার্সেলোনা ফুটবলার। তিনি বার্সেলোনায় কায়ে মুনতানের অঞ্চলে একা একা থাকছেন, পাশাপাশি ক্লাব সতীর্থ রিকে পুইগ ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে জমিয়ে পার্টি করছেন। প্রেমিকার কাছে ধরা খাওয়ার পর ৩৫ বছরের পিকে নাকি এখন উদ্দাম জীবন যাপন করছেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন নারী সঙ্গীকে নিয়ে পার্টি করছেন, চলছে রাত্রিযাপনও।
এমন ঘটনা জন্ম দেবার পর পিকের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন শাকিরা। ২০১০ বিশ্বকাপে পরিচয়ের পর ২০১১ সালেই যে বিশ্বাস নিয়ে এক সঙ্গে বসবাস শুরু করেছিলেন সেই বিশ্বাস মুহূর্তেই ভেঙে তচনচ করে ফেলেছেন পিকে। তাই অবিশ্বাসের ঘর আর করতে চান না শাকিরা। শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে পিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন এই পপতারকা। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন,’অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হচ্ছে। আমরা অনুরোধ করছি যাতে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা সবাই রক্ষা করে চলে। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এটা করা। ওদের কথা ভাবাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। ‘
এইতো গত মার্চে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার পর এই শাকিরাই নিজের স্বামীর উপর বিশ্বাস রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছিলেন,’পিকে বিশ্বের সেরা সেন্টার ব্যাক। ‘ শাকিরা সেদিন আরও বলেছিলেন,’জেরার্ড (পিকে) আমাকে এসব কথা প্রকাশ্যে বলতে দেবে না। কিন্তু শুধুমাত্র সে, তার বীরত্বের সাথে, আঘাত এবং ব্যথা কাটিয়ে সর্বদা তার সেরাটা দিয়ে খেলতে পারে। এটা শুধু এই কারণে নয় যে সে আমার স্বামী কিন্তু সে বিশ্বের সেরা সেন্টার-ব্যাক। ‘ মাঠে পিকের পারফরম্যান্স যেমনই হোক স্বামীকে সেরা মানতেন শাকিরা।
কিন্তু কৌতূহল বিষয় হচ্ছে, যে মানুষটাকে নিয়ে প্রায়ই নিজের অনুভূতি শেয়ার করতেন সেই তাকে নিয়ে সে দিনের (২১ মার্চ) পর আর কোনো মুহূর্ত বা অনুভূতি শেয়ার করেননি শাকিরা। তবে কি ঘটনা এরপর থেকেই শুরু?