শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় সরকারি অনুদান : স্বস্তিতে অসহায় মানুষ

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রান্তিক মানুষের জীবনে ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তি । আর্থিক সহযোগিতায় জটিল রোগে আক্রান্ত সিলেটের বহু মানুষ সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা  কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে জেলার চারশ রোগীকে দুই কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়।
অর্থের অভাবে চিকিৎসা যাদের নাগালের বাইরে তাদেরই একজন সত্তরোর্ধ্ব নারী মোছা. ফাতেমা বেগম। গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মাতুরতল বাজার এলাকার এই নারী স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে যান। সরকারের অনুদানের কল্যাণে সম্প্রতি চিকিৎসা নিতে পেরে, তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
ফাতেমা বেগম জানান, চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা প্রয়োজন ছিল তার। প্রতিবেশিদের পরামর্শে ও সহযোগিতায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেন। গত বছরের আগস্টে ৫০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন। এই টাকা তার সুচিকিৎসার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি এখন অনেকটা সেরে উঠেছেন। একই উপজেলায় জটিল রোগে আক্রান্ত তিন শিশুসহ ৪০ ব্যক্তিকে এ বছর আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ক্যান্সার, জন্মগত রোগ, থ্যালাসেমিয়া, কিডনির জটিলতা, লিভার সিরোসিসের রোগীও রয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন কৃষক, শিক্ষক, গৃহিনী, স্কুলছাত্র এবং বিভিন্ন বয়সের শিশু।
গোয়াইনঘাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু কাওছার জানান, তার উপজেলায় প্রতিবছর অনেকে আবেদন করেন। তাদের মধ্যে বাছাই করে প্রকৃত অসহায় রোগীকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। অনুদানের টাকা সরাসরি রোগীর ব্যাংক হিসাবে বা শিশুর অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।
গোয়াইনঘাট উপজেলার মতো সিলেট জেলার প্রতিটি উপজেলায় জটিল রোগে আক্রান্তরা আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকেন। এ বছর অনুদান পেয়েছে কানাইঘাট উপজেলার সালমা বেগমের শিশু সন্তান মামদুদ আহমদ (৪)। সে জন্মগতভাবে জটিল রোগে আক্রান্ত। উপজেলার ঘড়াইগ্রামের সালমা বেগম সন্তানকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে পাঠান। আর্থিক অবস্থার কারণে অসহায় মা উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেননি। তিনি ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজের সহায়-সম্বল দিয়ে চেষ্টা করেও কুল কিনারা পাচ্ছিলেন না। চিকিৎসকের পরামর্শমতো রাজধানী ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ তার ছিল না। এ বছর তিনি সমাজসেবা অফিস থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি আশাবাদী, এই টাকা নিয়ে তিনি ঢাকায় যাবেন এবং শিশুকে সুস্থ করে তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিলানী বলেন, ‘আগে আবেদন কম পড়ত। উপজেলার নাগরিকরা বিষয়টি জানাজানির পর প্রতি বছর জটিল নানা রোগে আক্রান্ত শতাধিক লোক আর্থিক সহযোগিতার আবেদন করেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তিকে আমরা অনুদান দিয়ে থাকি। বরাদ্দ বাড়লে আরও অনেকে পাবেন।’
একইভাবে গত বছর আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছেন ক্যান্সার আক্রান্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছাতক শিবপুরের স্বপন চক্রবর্তী (৫৩)। পেশায় একজন বারকি শ্রমিক। অনেক দিন ধরে ঘরবন্দি ছিলেন। প্রয়োজন ছিল একটি অস্ত্রপাচার। শেষপর্যন্ত সরকারি অনুদান ও আশপাশের লোকদের সহায়তায় ঢাকায় সফল অস্ত্রপাচার হয়েছে। এখন তিনি অনেকটা সুস্থ।
স্বপন চক্রবর্তী জানান, একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। ছোট একটি টিউমার থেকে জটিল রোগে রূপান্তর হয়েছিল। সরকারি অনুদান পাওয়া ৫০ হাজার টাকা ও পরবর্তীতে আশপাশের বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি পায়ের অস্ত্রপাচার করিয়েছেন। তিনি এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন। স্বপন চক্রবর্তী সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই উপজেলায় স্বপন চক্রবর্তীর মতো আরও সহযোগিতা পেয়েছেন স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস এ আক্রান্ত শিল্পী আচার্য, জন্মগত রোগে আক্রান্ত মো. বুশরা আক্তার, কিডনি রোগে আক্রান্ত মজমিল আলীসহ বেশ কয়েকজন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জনি রঞ্জন দে বলেন, ‘গরিব মানুষ আগে জটিল রোগে আক্রান্ত হলে নিরুপায় হয়ে চিকিৎসা ছাড়াই বসে থাকতো। এখন সরকারি অনুদানে উপজেলায় বছরে অর্ধশত লোক সুচিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে।’
সিলেট সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূসরাত-ই-ইলাহী জানান, বছরে কয়েক কিস্তিতে এই অনুদান প্রদান করা হয়। বছরে দুইশ’র বেশি আবেদন পড়ে তার উপজেলায়। এর মধ্যে বাছাই করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সবচেয়ে অসহায় রোগীকে সবার আগে অনুদান দেওয়া হয়।
সিলেট জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (উপপরিচালক) নিবাস রঞ্জন দাস জানান, এ বছর দুই কোটি এক লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। এই টাকা ১৩টি উপজেলা ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৯শ ৭০ জনকে এই অনুদান দিয়েছে সরকার।
জটিল রোগে ্আক্রান্ত রোগী ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় জেলায় চার হাজার চা শ্রমিক, এক লাখ ৭ হাজার নারীকে বয়স্ক ভাতা, ৪৫ হাজার ১৩১ নারীকে বিধবা ভাতা, ৪২ হাজার ১২৯ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ভাতা, এক হাজার ৫৮১ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। অনগ্রসর, বেদে ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৫৫৬ জনকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com