বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
করোনার টিকায় মানুষের আগ্রহ কমেছে। বারবার বিশেষ কর্মসূচি দিয়ে ও প্রচারণা চালিয়েও টিকা কেন্দ্রে আনা যাচ্ছে না মানুষকে। এতে একদিকে যেমন টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না সরকারের; তেমনি অপচয় হতে চলেছে মজুদ টিকার একটি বড় অংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দেশের ১৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষকে করোনার টিকা দেবে সরকার। তাদের মধ্যে ১২ কোটি ৯৬ লাখ মানুষ ইতিমধ্যেই টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন এবং এখনো বাকি আছেন আড়াই শতাংশ বা ৩৩ লাখ মানুষ। একইভাবে প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময় হয়েছে এমন ৯৪ লাখ মানুষ এখনো দ্বিতীয় ডোজ নেননি। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের ১ কোটি ২৭ লাখ মানুষ এখনো টিকা নেননি। এসব মানুষের জন্য মজুদ রাখা টিকা নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে সরকার।
এ ব্যাপারে করোনা টিকা ব্যবস্থাপনার টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ডা. শামসুল হক বলেন, সরকারের কাছে থাকা ১ কোটি ৯৩ লাখ টিকার মধ্যে ১ কোটি ২৭ লাখ টিকার মেয়াদ নভেম্বরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে এসব টিকা দেওয়া না গেলে সেগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না।
এমনকি বুস্টার ডোজ টিকা নেওয়ার ব্যাপারেও মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সরকারের হাতে বুস্টার ডোজের জন্য প্রচুর টিকা আছে। পাইপলাইনে আরও টিকা আনার ব্যবস্থা করা আছে। এই মুহূর্তে ৭ কোটি ৩০ লাখ লোক বুস্টারের উপযোগী হয়ে গেছে। তাদের জন্য টিকাও তৈরি আছে। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া মিলছে না।
এই কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সরকার ৩০ কোটি করোনা টিকা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ মিলে ২৮ কোটি ৮৫ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সরকারের কাছে মজুদ আছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ডোজ টিকা।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রথম ডোজের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ। সেখানে ১২ কোটি ৯৬ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ নিয়েছেন। এখনো ৩৩ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ নিতে পারেননি। একইভাবে দ্বিতীয় ও প্রথম ডোজের মধ্যে পার্থক্য প্রায় ৯৪ লাখ। অর্থাৎ প্রথম ডোজ নিয়েছেন কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ নেননি এমন মানুষের সংখ্যা ৯৪ লাখ। এই মিলে ১ কোটি ২৭ লাখ মানুষ এখনো টিকা নেননি। তাদের টিকা মজুদ আছে।
ডা. শামসুল হক বলেন, সব মানুষ যাতে টিকা পান, সে জন্য আমরা এই টিকা সংগ্রহ করেছি। টিকা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যাগও নেওয়া হয়েছে। আমাদের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। টিকা কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। এই ৩৩ লাখ প্রথম ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজের ৯৪ লাখ মানুষ, যারা এখনো টিকা নেননি তাদের জন্য যে টিকাগুলো মজুদ আছে, সেগুলোর মেয়াদ নভেম্বর পর্যন্ত। নভেম্বরে এই টিকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রত্যেকটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসব টিকা কার্যক্রম চলমান আছে। যেকোনো জায়গায় রেজিস্ট্রেশন করে টিকা নিতে পারবেন। যার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নেই, তিনি টিকা কার্ড বা এনআইডির মাধ্যমে টিকা নিতে পারবেন।
টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রমের কারণে সংক্রমণ হার অনেক কম। এখনো বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। গতকালও জাপানে প্রায় দুই লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশে টিকাগ্রহীতার হার বেশি হওয়াতে, যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের সংক্রমণ যেমন কম হচ্ছে; তেমনি সংক্রমণ যাদের হচ্ছে, তাদের মারাত্মক হচ্ছে না। জটিলতা অনেক কম হচ্ছে। সে কারণে হাসপাতালে এখন ভর্তির হারও অনেক কম। মৃত্যুর হারও অনেক কম। এ জন্য আমি বিশেষভাবে বলতে চাই, যারা টিকা গ্রহণ করেননি, তারা যেন অবশ্যই টিকাটা নিয়ে নেন।