বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে চিরপ্রতিদ্বন্দি ভারতের বিপক্ষে তার দেশ বেশ আত্মবিশ্বাসী বলেই মনে করছেন পাকিস্তান গ্রেট ওয়াসিম আকরাম। আগামী ২৮ আগস্ট এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিন্দ্বন্দি ভারত ও পাকিস্তান। এ ম্যাচ ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনা বিস্তর। দু’দলকে নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ^। কে জিতবে, সেটি নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে হারানোর পর পাকিস্তান এখন অনেক বেশি আত্মবিশ^াসী বলেই মনে করছেন আকরাম।
স্টার স্পোর্টসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওয়াসিম বলেন, নিজেদের দিনে ভারতকে হারানোর সামর্থ্য রাখে পাকিস্তান। গত বিশ^কাপেও ভারতকে হারিয়েছিলো পাকিস্তান।
দুবাইয়ে গত টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে ভারতকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলো পাকিস্তান। যা ছিল বিশ^কাপের মঞ্চে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম জয়এরপর বিশ^কাপের পর আবারও ২২ গজে দেখা হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের। এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বে দুই দলের এ লড়াইয়ে লড়াইয়ে পাকিস্তানকে এগিয়ে রাখছেন ওয়াসিম।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের যথেষ্ঠ উন্নতি হয়েছে। ধারাবাহিক ছিল তারা। আমি মনে করি, পাকিস্তানকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। ভারতকে হারানোর পরে পাকিস্তানের মানসিকতা বদলে গেছে। ঐ ম্যাচের পরে পাকিস্তান বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, বিশ্বমঞ্চে ভারতকে হারানোর ক্ষমতা তাদের আছে।’
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে অন্য ম্যাচগুলোর মত দেখার আহ্বান করেছেন ভক্তদের। তিনি বলেন, ‘ভারত-পাক দ্বৈরথের আগে সমর্থকদের একটা কথা বলতে চাই। ভুলে যাবেন না এটা কিন্তু আরেকটা ক্রিকেট ম্যাচ মাত্র। কেউ জিতবে, কেউ হারবে। ম্যাচটা প্রতিদ্বন্দিত্পুর্ন হলে সবার খুশি হওয়া উচিত।’
ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয় নিয়ে আশাবাদি ওয়াসিম। তবে পাকিস্তানের মিডল-অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত তিনি।
ওয়াসিম বলেন, ‘আমি একমাত্র, মিডল-অর্ডার নিয়ে চিন্তিত। চার নম্বরে নামা ইফতিখার আহমেদ ছাড়া আর কোন অভিজ্ঞ খেলোয়ড় নেই। তারপর হায়দার আলি, বা একজন তরুণ সেনসেশন থাকবেন, যারা ধারাবাহিক ছিলেন না। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাবর আজম এবং রিজওয়ান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, তারা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’
ভারত-পাকিস্তানের লড়াইয়ের মাঝেও দু’দলের সেরা দুই ব্যাটার বিরাট কোহলি ও বাবর আজমকে নিয়ে তুলনা চলছে। আর এই তুলনা স্বাভাবিক বলে মনে করেন ওয়াসিম।
তিনি বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক। যখন আমরা খেলতাম, মানুষরা ইনজামাম-উল-হককে রাহুল দ্রাবিড় বা শচীন টেন্ডুলকারের সাথে তুলনা করতো। এর আগে ছিল জাভেদ মিয়াঁদাদ ও সুনীল গাভাস্কারের, গুন্ডপ্পা বিশ্বনাথ এবং জহির আব্বাস, তাই এই তুলনা স্বাভাবিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাবর খুব ধারাবাহিক। কারণ সঠিক কৌশলের মধ্যে রয়েছে তিনি। সে তার ব্যাটিং উপভোগ করে। সে এখন খুব ক্ষুধার্ত, শারীরিকভাবে ফিট, এখনও তরুণ এবং এই ফরম্যাটের অধিনায়ক। সে খুব দ্রুত শিখছে। কোহলি যেখানে আছে, বাবর সেই পথেই এগোচ্ছে। কিন্তু এখনই বাবরের সাথে তুলনা করা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। তবে বাবর আধুনিক গ্রেটদের একজন হতে সঠিক পথেই আছে।’
কোহলির ফর্ম নিয়েও কথা বলেন ওয়াসিম, ‘প্রথমেই বলি, কোহলিকে নিয়ে ভারতীয় সমর্থকদের সমালোচনা করার কোনও মানেই হয় না। সে সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার। কোহলির বয়স এখন ৩৩। তার মতো ফিট ক’জন আছে। সেই চিরাচরিত কথাটা মনে পড়ে যাচ্ছে। ফর্ম সাময়িক, কিন্তু জাতটা চিরকালীন। আমি নিশ্চিত সে ফিরে আসবে। তবে আমি শুধু চাইবো, পাকিস্তানের বিপক্ষে যাতে রান না করে কোহলি (হাসতে হাসতে)।’
ভারতয়ি দলে রোহিত-কোহলি থাকলেও,আকরামের চোখে ভয়ংকর ব্যাটার হলেন সূর্যকুমার যাদব। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, রোহিত-রাহুল এবং কোহলি আছেন, কিন্তু আধুনিক যুগে এই ফরম্যাটে আমার প্রিয় খেলোয়াড়দের একজন- সূর্যকুমার যাদব। অসাধারণ ব্যাটিং প্রতিভা। আমি তাকে প্রথম বছর দেখেছিলাম, যখন সে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিয়েছিলো এবং ৭ এবং ৮ নম্বরে ব্যাটিং করে কয়েকটি ম্যাচ খেলেছিলো। যে কয়টি শট খেলেছে তার মধ্যে ব্যাটের মাঝখান থেকে ফাইন লেগ দিয়ে মারা শটটি দুর্দান্ত এবং এটি কঠিন একটি শট।’
ইনজুরির কারনে এশিয়া কাপে খেলা হচ্ছে না পাকিস্তানের সেরা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির। তার না থাকাটা পাকিস্তানকে ভোগাবে মনে করছেন ওয়াসিম, ‘আফ্রিদির অভাব ভীষণভাবে টের পাবে পাকিস্তান। নতুন বলে উইকেট নেয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান উঠার গতি আটকাতে গেলে উইকেট নিতে হবে। আফ্রিদি সেটিই করে। ব্যাটিংয়ে কে আছে, না দেখে স্টাম্পে আক্রমণ করে। আফ্রিদির না থাকা মানে পাকিস্তান বোলিং আক্রমণে সবাই ডান হাতি পেসার। কোনও বৈচিত্র্য থাকছে না।’
এশিয়া কাপ কে জিতবে, এমন প্রশ্নে, বাংলাদেশের কোন সম্ভাবনা দেখছেন না ওয়াসিম। তিনি বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাবনা আছে। শ্রীলংকা খুবই বিপজ্জনক দল। বাংলাদেশকে আমি ইদানীং সেভাবে ভালো করতে দেখিনি। আফগানিস্তানের হাতে ম্যাচ জেতানো বোলার আছে। এমন সব ব্যাটার আছে যারা আউট হতে ভয় পায় না। মনে হচ্ছে, এবারই সেরা এশিয়া কাপ দেখতে যাচ্ছি।