রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে দুই নেতা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিএনপির চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচিতে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। ২২ আগস্ট শুরু হওয়া কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে গতকাল শনিবারও অন্তত ১০টি স্থানে হামলা, ধাওয়াধাওয়ি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির দাবি, গত ছয় দিনে অন্তত ৫০টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে যশোর, মাগুরা ও নোয়াখালীতে সংঘর্ষ হয়।
এদিকে বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি সভা চলাকালে গতকাল বিএনপি নেতা মতিউর রহমানের বাসভবনে যুবলীগ-ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদিরের গাড়ি ভাঙচুর এবং ছাত্রদলের নেতা মুরাদকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনায় দলটির ২৪১ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে ছাত্রলীগ। বাঁশখালীতে শুক্রবার বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ওই রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের এক হাজার ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাতজনকে।
গতকাল গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, ২২ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি স্থানে হামলা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০০ জন নেতাকর্মী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে অন্তত ২০টি স্থানে। এসব ঘটনায় আসামি করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে। মামলা করা হয়েছে ১৫টির বেশি।
সোনাইমুড়ীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ১৫
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে সোনাইমুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অভিযোগ করেন, ‘নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিমের নেতৃত্বে আমাদের সমাবেশে হামলা চালানো হয়। এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। ’
যশোরে চার নেতার বাড়িতে হামলা
জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে যশোরে বিএনপির চার নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ করেন দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে একদল লোক তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এরপর যশোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খানের বাসভবনে একইভাবে স্লোগান দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
গতকাল যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, গতকাল সকালে যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারে সমাবেশ শেষে মিছিল বের করলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইট নিয়ে হামলা চালান। হামলায় সাব্বির হোসেন পলাশ নামে বিএনপির এক কর্মী ইটের আঘাতে মাথায় জখম হন।
মাগুরায় বিএনপি-যুবলীগ সংঘর্ষ
মাগুরা শহরের ভায়নায় বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় এলাকায় গতকাল বিএনপি ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। শহরের ভায়নায় সদর উপজেলা পরিষদের পাশে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সাতটি মোটরসাইকেল, একটি অটোরিকশায় আগুন দেওয়া হয়। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ছয় কর্মীকে আটক করেছে।
রামগতিতে চার নেতাকর্মীর দোকানে ১৯ ঘণ্টা তালা
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে বিএনপির চার নেতাকর্মীর দোকান ভাঙচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৯ ঘণ্টা দোকানগুলো তালাবদ্ধ ছিল। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে দোকাল খুলে দেওয়া হয়। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে চর রমিজ ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দোকানগুলোতে তালা লাগিয়ে দেন। যাঁদের দোকানে তালা দেওয়া হয় তাঁরা হলেন শ্রমিক দলের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো রিয়াজ, বিএনপি নেতা হেজু, মো. সৌরভ ও মো. ফরহাদ।
বরগুনায় ছাত্রলীগের বাধা
বরগুনার বামনা উপজেলার হাসপাতাল সড়কে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে মহিলা দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলার হাসপাতাল সড়কে বিএনপি সভাপতির বাসভবনের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বামনা উপজেলা ছাত্রলীগ গতকাল একই সময়ে বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাকে। পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
খুলনায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ
খুলনার খালিশপুরের বৈকালীতে গতকাল সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। উল্টো সেখানে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি দেওয়ায় পুলিশ উভয় পক্ষের কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এ ঘটনার জেরে গতকাল সন্ধ্যায় খালিশপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি কার্যালয়, নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। খালিশপুর থানার ৭, ৯ ১০ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাস্তুহারা কলোনি ইউনিট অফিসে এসব ঘটনা ঘটে।
ঢাকায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা চালাচ্ছেন।
গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, নোয়াখালীর সেনবাগ, ফেনীর ছাগলনাইয়া-ফুলগাজী, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, ময়মনসিংহের ফুলপুর, ত্রিশাল, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি, খুলনার দৌলতপুর, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও সফিপুর, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও বাঁশখালী, ঝালকাঠি, যশোর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, নরসিংদীর রায়পুরা, রাজশাহীর কাশিডাঙ্গাসহ ৫০টির বেশি স্থানে হামলা করা হয়েছে। হামলা করা হয়েছে যশোরে বিএনপি নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলার সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল ইসলাম সাবু, মিজানুর রহমান, লক্ষ্মীপুরে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বাড়িতে এবং টাঙ্গাইলের সফিপুরে আহমেদ আজম খানের গাড়িতে।
এসব হামলার পরও বিএনপি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবে কি না, প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। বিএনপি আন্দোলন শুরু করল মাত্র। লক্ষ্য একটাই, এই দানবীয় সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। ’