বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে গুণ ও মানে সমৃদ্ধ এবং পরিমাণে সঠিক খাবার সরবরাহের জন্য সরকারি হাসপাতালে সাধারণ (নন-কভিড) রোগীদের জন্য বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হচ্ছে।
এখন একজন নন-কভিড রোগীর জন্য দৈনিক বরাদ্দ ১২৫ টাকা। এটি বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ২০২০ সালের মার্চে দেশে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব শুরুর পর করোনা-আক্রান্ত রোগীর খাবারের জন্য দৈনিক বরাদ্দ রয়েছে ৩০০ টাকা।
রোগীর তিনবেলা খাবারের বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হলে চলতি অর্থবছরে সরকারের খরচ হবে ৭৪৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৭১ কোটি ৬৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের খাবারের ব্যবস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই করে। ২০১৩ সালে একজন রোগীর খাবারের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হতো, ২০২২ সালে তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজার-পরিস্থিতি বিবেচনায় খাবারের মান ঠিক রাখতে এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।
স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সুশীল কুমার পাল এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীপ্রতি ৩০০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এখন করোনা-আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে আসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। অনেক রোগী ভর্তি রাখা হচ্ছে। একই হাসপাতালে রোগীদের দুই ধরনের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিতে পারে। এমন আশঙ্কায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক সাধারণ রোগীদের পথ্য-বরাদ্দ বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগে। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালের পরিচালকদের নিয়ে বৈঠকে রোগীর তিন বেলা খাবারের বরাদ্দ দিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ১৭ জুলাই স্বাস্থ্য সচিবের কাছে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘মহাপরিচালকের অনুমতিক্রমে রোগীপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ পুনঃনির্ধারণ করতে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কমিটি দৈনিক বরাদ্দ ১২৫ টাকার পরিবর্তে ২৫০ টাকা করার সুপারিশ করে নন-কভিড রোগীদের জন্য। বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে গুণ ও মান এবং পরিমাণ ঠিক রেখে খাবার সরবরাহের জন্য (বিগত সময়ের ক্যালরি-চাহিদা পর্যালোচনা করে) ১২৫ টাকার পরিবর্তে ২৫০ টাকা করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
২০১৩ সাল থেকে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য সাধারণ স্কেলের ডায়েট বাবদ দৈনিক বরাদ্দ ১২৫ টাকা। সকালের নাশতার জন্য ৩৩ টাকা, দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য ৯২ টাকা। মোট ১২৫ টাকার মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরা হয়। ১০৬ টাকা খরচ করা হয় রোগীর তিনবেলার খাবার বাবদ।
২০০৯ সালে রোগীপ্রতি বরাদ্দ ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করা হয়। ২০১৩ সালে তা বাড়িয়ে ১২৫ টাকা করা হয়। হাসপাতালগুলো রোগীর জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খাবার সরবরাহ করে। প্রতি বছর দরপত্রের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারকে দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করে। শয্যার বাইরেও যেসব রোগী থাকে তাদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ৪২৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ১০, ২০, ৩১, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিভিন্নসংখ্যক শয্যার ৪৮৫টি হাসপাতাল রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে ৬২ জেলায়, ৫০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ও এক হাজার থেকে আড়াই হাজার শয্যার ৩০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট রয়েছে (টারশিয়ারি)। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৪টি শয্যা রয়েছে দেশে। সরকারি হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ৪৯ হাজারের কিছু বেশি। মাধ্যমিক ও টারশিয়ারি পর্যায়ের প্রায় সব হাসপাতালে শয্যার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকে।