রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর জিহাদী নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকিয়ায় যোগ দিতেই বাসা ছেড়েছিলেন ৪ শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে এই ৪ শিক্ষার্থীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজারে ব্রিফিংয়ে র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পটুয়াখালী ও ভোলার বিভিন্ন জায়গায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়।
গত ২৪ আগস্ট কুমিল্লা সদরের চৌয়ারা মসজিদের পাশের একটি হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্যে দেখা যায় ফাহিমের জন্য অপেক্ষা করছে নিলয়সহ চারজন। এর দুইদিন পর আরেক ফুটেজে চাঁদপুরের রেলগেটে নিলয়সহ তিনজনকে আবারো দেখা যায়।
নিলয়ের সহযোগিতায় তদন্তে নামে র্যাব। বের হয়ে আসতে থাকে ভয়ংকর সব তথ্য। গ্রেফতার করা হয় নিখোঁজ চারজনসহ মোট ৭ জনকে। র্যাব জানায়, নিখোঁজদের পটুয়াখালি ও ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিলো।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে নতুন জঙ্গি সংগঠনটির কর্মপদ্ধতি, প্রচারপত্র, বিস্ফোরক তৈরির নির্দেশিকা, উগ্রবাদী বই, ভিডিওসহ ট্যাব উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, মুল হোতারা নিষিদ্ধ আরেক জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ আল ইসলামের আর্দশ দ্বারা অনুপ্রাণিত হলেও পরবর্তীতে হতাশা থেকে নতুন জঙ্গি সংগঠন খোলার পরিকল্পনা করে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কাটআউট পদ্ধতিতে শুরু করে সদস্য সংগ্রহ।
র্যাবের মুখপাত্র মঈন বলেন, কুমিল্লার সাত তরুণের সঙ্গী ঢাকার কল্যাণপুরের শারতাজ ইসলাম নিলয় নামে আরেক তরুণ বাড়ি ছাড়ার এক সপ্তাহ পর গত ১ সেপ্টেম্বর ঘরে ফিরে আসেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একমাস ধরে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে র্যাব সাতজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এরা সবাই নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত হয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য ঘর ছেড়েছিলেন। সংগঠনের নাম জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া (পূর্বাঞ্চলীয় হিন্দের জামাতুল আনসার)।
র্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, এই নতুন জঙ্গি সংগঠনটি ২০১৭ সালে গঠিত হয়। ২০১৯ সালে এর নামকরণ করা হয়। র্যাব এখন পর্যন্ত এই আঞ্চলিক নেতা ও নিচের সারির নেতাদের গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। এর প্রধান কে বা সুরা সদস্য কারা সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।