শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শ্রম অধিকারের ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করতে দাতা সংস্থাকে আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, তাদের পরামর্শের চেয়ে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও আগ্রহকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা ও মান নিশ্চিতের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরামর্শ দিয়ে বলেন, শ্রমিকের যেকোনো ইস্যুতে লেবার মিনিস্ট্রিকে যুক্ত করে আপনাদের কাজ করা উচিত। একইভাবে স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হবে। শ্রম অধিকার ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করবেন না।
২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম বন্ধের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার। বাংলাদেশও এর সাথে একমত ছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কারণ শিশু শ্রমিকদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা না করা গেলে পথশিশু বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশে আইএলও’র ৫০ বছর পূর্তিতে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, শ্রম অধিকার ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দাতা সংস্থারা। এ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রম অধিকারের দুর্বল জায়গাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যবহার করবেন না। শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ দেশের বাস্তবতা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী বাংলাদেশও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু মুখের কথায় নয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাকে কাজ দিয়েই শ্রমিকের পাশে থাকতে হবে। অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করেছি, অনেক উন্নয়ন দাতা সংস্থা আছে যারা বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনা না করে শ্রম অধিকারের কথা বলে নানা পরামর্শ দিয়ে থাকে। তারা এদেশের শ্রমিকদের মূল চাহিদাকে পাশ কাটিয়ে অন্য উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উচিত সে দেশের স্থানীয় প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, শিগগিরই শ্রম আইন সংশোধন করে তাতে গৃহকর্মী খাতকে অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে।
সেমিনারে আইএলও’র সহকারী পরিচালক ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সহকারী মহাপরিচালক শিহোকো আসাদা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মইনুল কবির।
পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরদাশির কবির, শ্রমিক শিক্ষা বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির চেয়ারপার্সন শামীম আরা, আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পটিআইনেন বক্তব্য দেন।