শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও ডলার সংকট শেষ হওয়ার আগেই দেশের অর্থনীতিতে এসেছে বিশ্ব মন্দার ঢেউ। এ নিয়ে শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, উৎপাদনের খরচ কমানোর উদ্যোগ না নিলে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শঙ্কা দেখা দেবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুদহার বাড়ানোসহ চার উদ্যোগের জোরালো বাস্তবায়ন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে বাংলাদেশকে।
করোনায় সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতি লাগামহীন হয়ে পড়ে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের কারণে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে সুদহার বাড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ। যার ফলে সংকুচিত হতে শুরু করেছে অনেক বড় দেশের অর্থনীতি। আরেকটা মন্দার মুখে গোটা বিশ্ব।
রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, মন্দার প্রভাবে ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিল হচ্ছে। আবার অনেক ক্রেতা ক্রয়াদেশ দেওয়াই বন্ধ করেছে। যতটুকু ক্রয়াদেশ আছে গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটে তাও সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না। ডিজেলের মাধ্যমে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে গিয়ে বেড়ে যাচ্ছে খরচ। ফলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পে গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার চান তারা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ডলার সংকট ও বৈশ্বিক মন্দা এই তিন একই সুত্রে গাঁথা। এসব সংকট মোকাবিলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় আরও কমিয়ে আনতে হবে। বাড়াতে হবে ব্যাংক ঋণের সুদহার। দিতে হবে নিত্যপণ্যে কর ছাড়।
এছাড়া আইএমএফ ও অন্য সংস্থা থেকে বিদেশি ঋণ দ্রুত বাড়াতে হবে বলেও পরামর্শ তাদের।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনৈতিক মন্দা একটি অশুভ চক্র। একটি উপাদান আরেকটিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তাদের মতে, এবারের মন্দা এক থেকে দুই বছর দীর্ঘ হতে পারে। তবে সরকারের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে কোন দেশ কত দ্রুত মন্দা থেকে বের হব।