রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
দিল্লিতে নির্মম হত্যার শিকার প্রেমিকা শ্রদ্ধা ওয়ালকরের পরিচয় যাতে প্রকাশ্যে না আসে সে জন্য দেহ টুকরো টুকরো করার পর কাটা মুখ-মণ্ডল পুড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রেমিক আফতাব আমিন পুনাওয়ালা।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় আফতাব এমনটাই জানিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, শ্রদ্ধাকে হত্যার পর মৃতদেহের টুকরোগুলি কী ভাবে ফেলা যায়, তা তিনি ইন্টারনেট ঘেঁটে বের করার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর শ্রদ্ধার মৃতদেহ ৩৫ টুকরো করা হয়। সেই মৃতদেহ সংরক্ষণ করে রাখতে কিনে আনা হয় নতুন ফ্রিজ। এরপর ১৮ দিন ধরে কাছের জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধার দেহের টুকরোগুলি জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসেন আফতাব। সন্দেহ এড়াতে রাত ২টার দিকে পলিব্যাগে করে শ্রদ্ধার দেহের টুকরো নিয়ে বাড়ি থেকে বেড় হতেন বলেও পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে।
তার মধ্যে বেশ কিছু অংশ জঙ্গলের জন্তুরা খেয়ে ফেলেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই দেহের ১৩ টুকরো উদ্ধার করা গেলেও এখনও বেশ কিছু দেহের টুকরো উদ্ধার করা যায়নি।
শ্রদ্ধার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করার পর দিল্লি পুলিশ গত শনিবার আফতাবকে গ্রেপ্তার করে। তারপর থেকেই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রমাণ খুঁজে বার করতেও তৎপর দিল্লি পুলিশ।
আফতাব পুলিশকে জানিয়েছেন, আমেরিকার জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ডেক্সটার’ দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। একই সঙ্গে তার গুগল সার্চে মৃতদেহ নিকেশ করা সম্পর্কে প্রমাণ মিলেছে।
দিল্লি পুলিশের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানিয়েছে, সন্দেহ না অন্য কোনও কারণ, ঠিক কী কারণ আফতাব এমনটা করতে চেয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখতে চাইছে পুলিশ।
মেহরৌলীর জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি শ্রদ্ধারই কি না, সে বিষয়ে সুনিশ্চিত হতে শ্রদ্ধার বাবাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ। শ্রদ্ধার বাবার ডিএনএ টেস্ট করে, সেই ডিএনএ-র সঙ্গে দেহাংশগুলির ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে।
বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ হাতে পেলেও এখনও বেশ কিছু বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট হাতে পায়নি পুলিশ। যেমন আফতাব এবং শ্রদ্ধার ব্যবহৃত জিনিসপত্রের ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। ওই রিপোর্ট হাতে এলে অনেক রহস্যের কিনারা হতে পারে।
পানির বিলটি ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে তদন্তকারী পুলিশের হাতে। আর এই পানির বিল অভিযুক্ত আফতাব আমিন পুনাওয়ালার বিরুদ্ধে অন্যতম প্রমাণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ।