রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
আগস্ট মাসে নড়েচড়ে বসেছিল গোটা টলিউড। ও পার বাংলার এমন এক ওয়েব সিরিজ স্ট্রিম করা শুরু করে, যে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে ‘এমন ওয়েব সিরিজ় বাংলায় আগে হয়নি’। ধীরে ধীরে ‘কারাগার’-এর জনপ্রিয়তা দুই বাংলাতেই সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। চঞ্চল চৌধুরীর নির্বাক অভিনয় মুগ্ধ করে সব বয়সের দর্শককে। এই সিরিজ এবং চঞ্চলকে নিয়ে উন্মাদনা এতটাই ছিল যে, তার আঁচ গিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবেও। চঞ্চল অভিনীত ‘হাওয়া’ দেখতে লোকে লাইন দিয়েছিলেন তিন-চার ঘণ্টা ধরে। সেই সিরিজের দ্বিতীয় সিজন আসছে ‘হইচই’-এ। আজ (২২ ডিসেম্বর) থেকে শুরু স্ট্রিমিং। কিন্তু প্রথম ভাগের মতো জমল কি?
‘কারাগার পার্ট ওয়ান’-এ রহস্য ঘনাচ্ছিল। ১৪৫ নম্বর সেলের কয়েদি আসলে কে? সে কি সত্যিই বোবা? কী করে এলো জেলের ভিতর? সে কি সত্যিই ২৫০ বছর ধরে বেঁচে রয়েছে? জেলার মোস্তাকের ছেলের গল্পটাই বা কী? মাহার বাবা কে? নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছিল দর্শকের মনে। কিন্তু এই ভাগে সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো মিলছে। সব যে খুব মনমতো হচ্ছে, তা নয়। হয়তো কোনোটির উত্তর পেয়ে চিত্রনাট্যের তারিফ করতে ইচ্ছা করবে, আবার কোনোটির উত্তর পেয়ে মনে হতে পারে, এটা তেমন জমল না। আবার সব উত্তর যে দ্বিতীয় ভাগে পেয়ে যাবেন, তেমন নয়। কিছু কিছু সুতো যেন আলগা রয়ে গেল সাতটি পর্বের শেষেও।
আরও একটি অনুযোগ থাকবে চিত্রনাট্যের কিছু ‘সাব প্লট’ নিয়ে। প্রথম ভাগে যেখানে অনেক সাব প্লট বেশ সযত্নে চিত্রনাট্যের সঙ্গে বুনে দেওয়া হয়ছিল, এ ভাগে যেন সেগুলো খানিক অবহেলিত। হয় সেই গল্প আর এগোয়নি, অথবা কোনোরকমে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে দর্শকের মনের আশা পূরণ না-ও হতে পারে।
তবে ‘কারাগার পার্ট টু’ দর্শকের মনে জিতে নেবে দুই জায়গায়। এক অভিনয়, দুই মেকিংয়ে। চঞ্চলের মুখে এবার অনেক সংলাপ জুড়লেও তার চোখ অভিনয় করা থামায়নি। মোস্তাকের চরিত্রে ইন্তেখাব দিনার, কিংবা আশফাকের চরিত্রে এফ এস নাঈম বা মাহার চরিত্রে তাসনিয়া ফারিণ আগের ভাগেও যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এই সিজনে বিশেষ করে চোখে পড়বে জল্লাদ এবং রাজুর চরিত্রটা। এই সিরিজের বিপুল জনপ্রিয়তার পেছনে অনেকটাই কৃতিত্ব রয়েছে অভিনেতাদের।
অবশ্য শুধু অভিনয় নয়, সিরিজের মেকিংও যথেষ্ট প্রশংসার দাবি করে। এই ভাগেও আগের মতোই আবহসঙ্গীত, ক্যামেরা, ট্রিটমেন্ট- সবই গল্পের আমেজ গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পরিচালক সৈয়দ আহমেদ শাওকী সাসপেন্স তৈরি করতে যতটা পারদর্শী, দর্শকের মনে আবেগ তৈরি করতে হয়তো ততটাও নন। মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকারদের অত্যাচার, একটি গোটা প্রজন্মের অস্তিত্ব সঙ্কট- গল্পে রয়েছে অনেক কিছুই। কিন্তু চরিত্রগুলোর সঙ্গে সেভাবে একাত্মতা না-ও তৈরি হতে পারে।
তবে বলে রাখা ভালো যে, এ সবই আগের ভাগের সঙ্গে তুলনা টানলে তবেই প্রযোজ্য। না হলে ‘কারাগার টু’ এ বছরের সেরা বাংলা ওয়েব সিরিজের তালিকা বানালে নিঃসন্দেহে উপরের দিকেই থাকবে। গল্পের গতি কখনোই ধীর হয় না। কোনো দৃশ্য অতিরিক্ত মনে হবে না। গল্প বলার মাপা শৈলি এই ভাগেও অব্যাহত। আর ছবির ট্রেলারে ডেভিডের মুখের সংলাপ ধার করেই বলা যায়, ‘এভরিবডি লাভস আ গুড স্টোরি’।