শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন
টলুইন নামক রাসায়নিকযুক্ত কালি দিয়ে তৈরি খাদ্যপণ্যের প্যাকেট ও লেবেলে ঝুঁকি বাড়ছে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রাসায়নিক সহজেই রক্তে মিশে শরীরে নানা রোগ তৈরি করে। টলুইনে শিশুদের ক্ষতি তূলনামূলক বেশি। তাই ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশে টলুইন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
খাদ্য পণ্যসহ নানা ধরনের নিত্যপণ্য মোড়কে ও নানা ধরনের লেবেল লাগিয়ে বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্যাকেট, মোড়ক ও লেবেলের কালি তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে টলুইন নামক রাসায়নিক। মোড়কের লেমিনেটিং নষ্ট হলে এই রাসায়নিক মিশে যায় খাবারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, টলুইন খাবারের মাধ্যমে পেটে গেলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ তৈরি করে। শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরো বেশি। কারখানার কর্মপরিবেশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে টলুইনের কারণে। এসব কারণে উন্নত দেশের পাশাপাশি ভারত, শ্রীলংকার মতো অনেক দেশ টলুইন নিষিদ্ধ করেছে।
একটি আন্তর্জাতিক কালি উৎপাদনকারী কোম্পানির গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে মাসে সাড়ে আটশ টন প্যাকেজিং কালি ব্যবহার হয়। যার অর্ধেকের বেশি টলুইনযুক্ত। দেশে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ায় বছরে গড়ে ১৫ ভাগ বাড়ছে প্যাকেজিং ব্যবসাও।
উদ্যোক্তারা জানান, টলুইনমুক্ত কালি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ তেমন বাড়ে না। কিন্তু সচেতনতা ও আইনি বিধিনিষেধ না থাকায় অনেক কোম্পানি টলুইনযুক্ত কালি ব্যবহার করছে।
পণ্যের মোড়কে ব্যবহৃত কালির প্রায় অর্ধেক উৎপাদন হচ্ছে দেশেই। এজন্য কারখানা করেছে জাপান, জার্মানসহ কয়েকটি দেশ। বাকিগুলো আমদানি হচ্ছে ভারত ও চীন থেকে।