নগরকণ্ঠ ডেস্ক
- রবিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ /
কভিড ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। স্থানীয় মুদ্রার তুলনায় বেড়েছে ডলারের দাম। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ‘বিলাসপণ্য’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় শতভাগ এলসি মার্জিনের আওতাভুক্ত করা হয় গাড়ি আমদানি। কিন্তু তাতে গাড়ি আমদানি ঠেকানো যাচ্ছে না। গত অর্থবছরে (২০২১-২২) আগের অর্থবছরের চেয়ে ছয় হাজার ৭৯৯টি গাড়ি বেশি আমদানি হয়েছে। মোট গাড়ি আমদানিতে পাঁচ বছরের মধ্যে রেকর্ডও হয়েছে গত অর্থবছরে।
সূত্র জানায়, সরকারের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ডসংখ্যক গাড়ি আমদানি হয়েছে দেশে। এদিকে বিলাসপণ্যের এলসি নিয়ন্ত্রণ করায় এলসি ছাড়াই গাড়ি আনছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে এলসিবিহীন গাড়ি আমদানি ব্যয় কিভাবে শোধ হবে এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস কিভাবে শুল্কায়ন করবে, তা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মূল্যস্ফীতি মোকাবেলা, ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকাতে ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল পণ্য আমদানিতে লাগাম টানে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পরে ৪ জুলাই দেশের মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অধিকতর সুসংহত রাখার লক্ষ্যে মোটরকার (সেডান কার, এসইউভি, এমপিভি), ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স, স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার, মূল্যবান ধাতু, মুক্তা ও তৈরি পোশাক আমদানিতে এলসির শতভাগ নগদ মার্জিন সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এত কড়াকড়ির মধ্যেও গাড়ি আমদানির রেকর্ড হয়েছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে।
সূত্র বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ৩৪ হাজার ৭২১টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে মোংলা বন্দর দিয়ে ২০ হাজার ৮০৮টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে একই সময়ে ১৩ হাজার ৯১৩টি গাড়ি আমদানি হয়েছে, যা বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ডলার সংকটেও বিলাসপণ্য গাড়ি আমদানি বাড়ায় রিজার্ভের সংকট বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ২৭ হাজার ৯২২টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে মোংলা বন্দর দিয়ে ১৪ হাজার ৪৭৪টি গাড়ি এসেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৩ হাজার ৪৪৮টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে গাড়ি এসেছে ১৭ হাজার ৯৩টি, এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দর দিয়ে যথাক্রমে চার হাজার ৮০০টি এবং ১২ হাজার ২৯৩টি গাড়ি এসেছিল। এর আগের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি খালাস হয়েছিল ১২ হাজার ৫০১টি ও মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি এসেছিল ১২ হাজার ৬৯৫টি। অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গাড়ি এসেছিল ২৫ হাজার ১৯৬টি।