বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

ঢাকামুখী হচ্ছে বিএনপির আন্দোলন

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। আগামী দিনে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে যেতে চায় দলটি। আন্দোলনে সফলতার জন্য ঢাকা মহানগরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি নেতাদের নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভার্চুয়াল সভা করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত রবিবার রাতে সবশেষ ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৯ ও ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকায় নতুন করে দুই দিনের পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি হলো ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গোপীবাগ ব্রাদার্স ক্লাব মাঠ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত পদযাত্রা। ন রবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারি শ্যামলী ক্লাব মাঠ থেকে রিংরোড, শিয়া মসজিদ, তাজমহল রোড, নুরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে বছিলা পর্যন্ত পদযাত্রা। এই কর্মসূচি করবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

‘ঢাকায় একবার পদযাত্রার পর নতুন করে এই কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি কী অর্জন করতে চায়’এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে গেছি। ইউনিয়ন পর্যায়ে যে কারণে গেছি, এর মূল কারণটা হলো দেশের পুরো জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই আন্দোলনটাকে আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের আল্টিমেট টার্গেট হচ্ছে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচি নস্যাৎ করার জন্য নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অবিলম্বে আটকদের মুক্তির দাবি করা হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন।

বৈঠকের বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতারা জানান, বিগত আন্দোলনে সারা দেশে সফলতা এলেও ঢাকায় সেভাবে আন্দোলন করতে পারেনি মহানগর বিএনপি। এবার ঢাকাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর বিএনপি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা রাজধানী ঢাকায় ১৬টি স্পটে সমাবেশ করেছি। আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা অতিক্রম করে নেতাকর্মীরা রাজপথে অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় ৪টি পদযাত্রা কর্মসূচি ছিল। ১১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। রাজধানী ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণে আমরা দুটি পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করব। এখন তার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি। সফল হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প আমাদের সামনে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায়ই আমাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করছেন। ঢাকা মহানগরের পুনর্গঠনসহ কর্মসূচির আগে আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। দ্রুত মহানগর বিএনপির পুনর্গঠন কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মেনে কর্মসূচি পালন করে আমরা সফল হয়েছি। আগামী দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলনে আমরা সফল হব আশা করছি। কারণ আমাদের নেতাকর্মীরা এখন বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সাহস নিয়ে রাজপথে নামছে। এটাই আমাদের সাহস জোগাচ্ছে।’

বিএনপির একজন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘বিগত দুটি আন্দোলন ঢাকা মহানগরের ব্যর্থতার জন্য সফল হতে পারেনি। এবার ঢাকা মহানগর কমিটির নেতারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু সফল কর্মসূচি পালন করেছেন। আমরা আশা করছি, সারা দেশের আন্দোলন সফল করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে ঢাকা মহানগর বিএনপি। মহানগর নেতাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলে এবারের আন্দোলন সফল হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামীর আন্দোলনে আশপাশের জেলাগুলো, বিশেষ করে গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভারের নেতাকর্মীরা রাজধানী ঢাকার আন্দোলন বেগবান করতে প্রয়োজনে রাস্তায় নামবেন। এভাবে আশপাশের জেলা নেতাদের সহযোগিতায় ঢাকা মহানগর আন্দোলনে সফলতা পাবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকায় ১৬টি স্পটে আমাদের কর্মসূচি ছিল। এর মধ্যে বনানীতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেছিল। হামলার পর নেতাকর্মীরা দমে যাননি; বরং আরও বিপুল উৎসাহ নিয়ে রাজপথের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সবগুলো কর্মসূচি সফল করেছেন। আমরা মহানগর বিএনপির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রথমে ওয়ার্ড কমিটি করেছি। এখন থানা কমিটি গঠনের কাজ চলছে। চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে সব কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শেষ হবে। এরপর আমরা সম্মিলিতভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ব।’

আমিনুল হক বলেন, ‘মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নব্বইয়ের স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নায়ক আমান উল্লাহ আমান। তৎকালীন সময়ে যারা ছাত্ররাজনীতি করতেন, তাদের অনেকেই এখন বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে মহানগর বিএনপি এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।

মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ৩ কর্মী নিহতের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১৬টি প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি পালন করে ঢাকা মহানগর বিএনপি। কর্মসূচি সফল করতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। এতে করে চাঙা হয়েছিলেন মহানগর বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দফায় দফায় গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানামুখী সংকটে দেশের জনগণ অতিষ্ঠ। তারা নিজেদের ভোটাধিকার, মানবাধিকারসহ সব অধিকার ফিরে পেতে চায়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের যে প্রান্তেই আমরা সমাবেশ করি না কেন, তাতে সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে। এটাই আমাদের আশার আলো। আগামী দিনে সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে রাজধানী ঢাকাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। সেভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা এগিয়ে যাব। আন্দোলনে সফল হব আশা করছি।’ তিনি বলেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। তারা স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকবেন। বর্তমানে বিএনপির যে আন্দোলন তা বিএনপির একার আন্দোলন নয়। দলমত-নির্বিশেষ দেশের জনগণের আন্দোলন। জনগণ তাদের ভোটাধিকার, মানবাধিকার ফেরত পেতে চায়। সাধারণ জনগণ সক্রিয় হচ্ছেন।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com