শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার একটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুসহ ১৭ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরো অর্ধশতাধিক। এছাড়া দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৬ শ’রও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের উদ্ধারকর্মীরা।
দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, উত্তর জাকার্তার তানাহ মেরাহ এলাকার প্লামপ্যাং ফুয়েল স্টোরেজ স্টেশন নামের সেই তেলের ডিপোতে শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে আকস্মিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী জনবসতিপূর্ণ এলাকায় । ইন্দোনেশিয়ার মোট জ্বালনি তেলের চাহিদার ২৫ শতাংশ সরবরাহ আসে এই ডিপো থেকে।
ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের ২৬০ জন কর্মী ও ৫২টি ইঞ্জিন আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে এপিকে নিশ্চিত করেছেন দপ্তরের কর্মকর্তা রাহমাত ক্রিস্তান্তো।
ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত ভিডিওফুটেজে দেখা গেছে— দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের শিখা নেভাতে হিমসিম খাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এবং জনগণ আতঙ্কে ছুটাছুটি করছেন।
ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধান ডুডং আবদুরচম্যান জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৮টার পর আগুন লেগেছে। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ডুডং আবদুরচম্যান।
তেল ও গ্যাস ফার্মের প্রধান নির্বাহী নিক বিদ্যাবতী বলেছেন, তাঁরা অভ্যন্তরীণভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করবেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ অগ্নিকাণ্ডের কারণে দেশের কোথাও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিক বিদ্যাবতী বলেছেন, পার্শ্ববর্তী তেলের টার্মিনাল থেকে নিরাপদে তেলের ব্যাকআপ সরবরাহ করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানিবিষয়ক মন্ত্রী এরিক থোহির আহত ও নিহতদের পরিবারে প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে পের্তামিনাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের প্রধান সাত্রিয়াদি গুনাওয়ান বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই ডিপোতে একটি পাইপ ফেটে যাওয়ার খবর পেয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫১টি ইউনিট ও ২৫০ জন কর্মী কাজ করেছে বলে জানিয়েছে জাকার্তার প্রধান ফায়ার স্টেশন।
এর আগে ২০০৯ সালে একই ডিপোতে আগুন লেগেছিল। তবে সে সময় কেউ হতাহত হননি। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ওই ডিপোর আশপাশে ৪০টি বাড়িতে আগুন লেগেছিল। সেবারও কেউ হতাহত হয়নি।