বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন
দেশে উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবে সে অনুপাতে কর্মক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা সন্তোষজনক নয়। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গিকে। নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, সন্তান ও সংসার দেখভালকেই নারীর প্রধান কাজ হিসেবে মনে করা হয়। তাই কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহন বাড়াতে হলে, ঘর থেকে কর্মক্ষেত্র, সবটাকেই ঢেলে সাজাতে হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুারোর হিসেবে, বিগত পাঁচ বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর অনুপাত প্রায় সমান।২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ছিল ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
তবে, শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও কর্মক্ষেত্রে সে অনুপাতে বাড়েনি। বিবিএসের সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তিতে ৪ কোটি ২২ লাখ পুরুষ আর নারী ১ কোটি ৮৭ লাখ। তবে শ্রমবাজারে নারীর একটা বড় অংশই অনানুষ্ঠানিক বা নিম্ন আয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।
উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়লেও কর্মক্ষেত্রে না বাড়ার পেছনে নানামুখী বাধার কথা বলছেন নারীরা।
নারী অধিকারকর্মী খুশি কবির বলছেন, চাকরী জীবনে প্রবেশ করলেও ঘর সামলানোকেই নারীর মূল দায়িত্ব মনে করে সমাজ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সানজিদা আকতার বলেন, প্রশাসন ও সরকারের উঁচু পদে আছেন নারীরা। তবে ব্যতিক্রম কখনো সার্বিক চিত্র হতে পারে না। তাই নারীকে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য সংসারের দায়িত্ব পূর্নবন্টনের কথা বলা হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রকেও হতে হবে নারী বান্ধব।
বেগম রোকেয়ার দর্শনে সৃজনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পাশাপাশি তার বাস্তব অনুশীলনকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও শিক্ষার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছেন না সব নারী। ফলে এখনো নিজ মর্যাদা আর অধিকার সর্ম্পকে সচেতন হতে পারছেন না আপামর নারীরা।