শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
কৃষ্ণ সাগরের ওপর ধ্বংস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন। অত্যাধুনিক ওই ড্রোনটিকে রাশিয়া ইচ্ছা করে ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রাশিয়া বলেছে, তারা কোনো আক্রমণ চালায়নি, ড্রোনটি নিজেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
জানা যায়, কৃষ্ণসাগরের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোনের সঙ্গে রুশ যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এ খবর এসেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী অভিযোগ করে বলেছে, রুশ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মানববিহীন মার্কিন ড্রোনের সংঘর্ষের পর ড্রোনটি কৃষ্ণসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় এক বিবৃতিতে রাশিয়া বলেছে, কৃষ্ণসাগরের ওপরে রাশিয়ার জেট এবং মার্কিন ড্রোনের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এমনকি দুই আকাশযান পরস্পরের সংস্পর্শে আসেইনি।
মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় ৬টা ৩ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ‘রুশদের একটি অ-পেশাদার কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। দুর্ঘটনার জন্য রাশিয়াকেই দায়ী করেছে তারা। এতে রাশিয়ার যুদ্ধবিমানটিও বিধ্বস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের সময় কৃষ্ণসাগরে ড্রোন বিধ্বস্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন কর্মকর্তারা। এ সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনায় ওয়াশিংটনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।
পেন্টাগন বলছে, রাশিয়ার বিমানবাহিনীর সু–২৭ ফ্ল্যাঙ্কার ফাইটার জেট উত্তর কৃষ্ণসাগরের ওপর ব্যস্ত আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় একটি মনুষ্যবিহীন মার্কিন মিলিটারি রিপার ড্রোনের প্রপেলারে আঘাত করে। পরক্ষণেই ড্রোনটি সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কিরবি এই ঘটনাকে ‘বেপরোয়া এবং অ-পেশাদার’ বলে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ড বলছে, সোভিয়েত যুগের এক জোড়া ফাইটার জেট আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নজরদারির কাজে নিযুক্ত ড্রোনটির পথরোধ করে এবং এর ওপর জ্বালানি ফেলে। ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে এটিকে সমুদ্রে নামানো ছাড়া উপায় ছিল না। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স
ওয়াশিংটন এ ঘটনায় রাশিয়ার নিন্দা জানিয়েছে। এই সংঘর্ষকে রাশিয়ার ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ বলে উল্লখ করেছে। এই ঘটনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানান, ‘রুশ রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এলে আমরা কড়া অভিযোগ দেব। রুশ যুদ্ধবিমান যা করেছে, তা একদমই অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ। এরই মধ্যে মস্কোতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন ট্র্যাসি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করার পর রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনভ সাংবাদিকদের জানান, ইউরোপের পূর্ব অংশে যা ঘটছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিমিয়াকে রাশিয়া ফেডারেশনের একটি অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, সেখানে রাশিয়ান নৌবাহিনী বা রাশিয়ান বিমানবাহিনীকে উসকে দেওয়া প্রয়োজন ছিল কি-না।
আনাতোলি আন্তোনভ বলেন, ‘আমরা এমন পরিস্থিতি যাতে তৈরি না করি, যেখানে রাশিয়ান ফেডারেশন এবং যুক্তরাষ্ট্র অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হয়।’