বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর কর্মসুচী ও শিশু দিবস পালনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর বাউফলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এই দিনটিকে স্মরণ করে রাখতে বাউফলে আওয়ামী লীগ চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচী ঘোষণা করে। এতে এক পক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন আসম ফিরোজ(এমপি), অপর পক্ষে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জিয়াউল হক। অপর আরও একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার। এছাড়াও হাসিব আলম তালুকদারের পক্ষ থেকেও কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বাউফল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি মিছিল সহকারে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় টিএন্ডটি সড়কে জনতা ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। অপরদিকে একই সময়ে স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম ফিরোজ(এমপি) নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে বাউফল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দিকে যান। এ সময়ে উপজেলা পরিষদ গেইটের সামনে উভয় গ্রুপ মুখোমুখি হলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার(৬০),মো. রিপন হওলাদার(৪০) গৌতম চন্দ্র(৩০), অমল চন্দ্র(৭৫), জাহিদ(২৫),রাজিব(২২), জলিল মুন্সি(৬০), পলাশ দাস(৩৬), হাসান(২৭), বেল্লাল(২২), সূধীর(৩৬) ও ইমরান(১৮)সহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার(৪০) ও স্থানীয় সাংসদ ফিরোজ সমর্থিত ধূলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. রিপন হওলাদারকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। অন্যদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শোয়েব মাহমুদ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মতালেব হাওলাদারের বুকে, কাঁধে ও হাতের আঙ্গুলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবে র্যালী ও সমাবেশ সম্পন্ন করেছেন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। শহর জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আল মামুন বলেন, কর্মসুচী পালনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য লাঠিচার্জ করে ছত্র ভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।