বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
বাংলাদেশে পোলট্রি শিল্পের শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। সাধারণ মানুষ পোলট্রি র ডিম কিংবা ব্রয়লার মুরগির মাংস খেতেই চাইতো না। পোলট্রির মাংস যে কতটা সুস্বাদু, নরম এবং স্বাস্থ্যসম্মত তা বোঝাতে শুরুর দিকের উদ্যোক্তাদের অতিথি ডেকে এনে রান্না করা মাংস পরিবেশনও করতে হয়েছে। আশির দশকে এ শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৫শ’ কোটি টাকা। আর বর্তমানে এ শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পোলট্রি উদ্যোক্তা ও খামারিদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ এবং সরকারের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই এ অসাধ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
মাত্র চার যুগের ব্যবধানে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর খাতটি এখন অনেকটাই আত্মনির্ভরশীলতার পথে। বর্তমানে পোলট্রির মাংস, ডিম, একদিন বয়সি বাচ্চা এবং ফিডের শতভাগ চাহিদা মেটাচ্ছে বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প। সাধারণ গরীব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য কম দামে প্রাণিজ আমিষের জোগান দিচ্ছে এ শিল্প। শিশুর দৈহিক গঠন ও মেধার বিকাশ, শ্রমজীবী মানুষের শক্তির জোগান, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, সর্বোপরি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প উলেস্নখযোগ্য অবদান রাখছে। নতুন প্রজন্মের রুচি ও চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে চিকেন নাগেট, সসেজ, ড্রামস্টিক, বার্গার, সামোসা, মিটবলসহ বিভিন্ন ধরনের মজাদার প্যাকেটজাত খাবার- যা কিছুকাল আগেও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে অপুষ্টির হার অনেক কমেছে। মা ও নবজাতকের মৃতু্য হার কমেছে; ৫ বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে খর্বাকায় ও কম ওজনের শিশুর সংখ্যা কমেছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু অনেক বেড়েছে, নতুন প্রজন্ম লম্বা হচ্ছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও আমাদের ছেলেমেয়েরা সম্মান ছিনিয়ে আনছে। এ অর্জনগুলো সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং পুষ্টিসূচকের উন্নতির কারণে।
আজ থেকে ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার পরিমাণ ছিল বছরে গড়ে ৫ থেকে ৭টি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে এ সংখ্যা ১৩৬টি। সরকারি এ সংস্থার মতে, দৈনিক ডিম উৎপাদিত হচ্ছে বছরে প্রায় ৬ কোটি ৩৮ লাখ। ২০৩১ সাল নাগাদ ডিম খাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বছরে মাথাপিছু ১৬৫টি এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ২০৮টি। বর্তমানে পোলট্রি মাংস উৎপাদিত হচ্ছে বছরে প্রায় ৩৮ লাখ টন। মুরগির মাংসের প্রাপ্যতা বছরে জনপ্রতি প্রায় ২২.৩৮ কেজি।
আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না। অর্থনৈতিকভাবে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। শুধু ক্রিকেটেই নয়; অলিম্পিকেও সোনার মেডেল ছিনিয়ে আনতে চাই।
দেশীয় পোলট্রি শিল্পের অর্জন: আজ থেকে মাত্র ৪০ বছর আগেও বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর একটি খাত ছিল। দেশীয় চাহিদা মেটাতে ডিম, মাংস, একদিন বয়সি বাচ্চা ও ফিড আমদানি করতে হতো। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মুরগির ডিম, মাংস, একদিন বয়সি বাচ্চা ও ফিডের শতভাগ চাহিদা মিটছে। ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম ও মুরগির মাংস খেতে পাচ্ছেন। ২০১৯ সাল থেকে পোলট্রি ও ফিস ফিড ভারত ও নেপালে রপ্তানি হচ্ছে। বাজার আরও সম্প্রসারিত করার চেষ্টা চলছে। ২০২৫ সাল নাগাদ পোলট্রির মাংস, মাংসজাত পণ্য, ডিম ও মুরগির বাচ্চা রপ্তানির জন্যও প্রস্তুতি চলছে। গার্মেন্টস শিল্পের পর সবচেয়ে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে পোলট্রি শিল্প। প্রায় ৬০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এ খাতটি; যার প্রায় ৪০ শতাংশই নারী।