বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

উৎসব রাঙাতে কেনাকাটায় জমজমাট নিউমার্কেট

এবার রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই জমে ওঠেছে রাজধানীর নিউমার্কেট ও আশপাশের বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের বেচাকেনা। সাধারণত রমজানের শেষ দিকে এসব এলাকায় ক্রেতার চাপ বাড়ে, কিন্তু এবার ঈদ ও বৈশাখকে সামনে রেখে তা আগেভাগেই জমে ওঠেছে।

দুই উৎসবকে সামানে রেখে প্রায় প্রতিদিনই অসংখ্য ক্রেতা নিউমার্কেট এলাকায় আসছেন। গাউসিয়া, চন্দ্রিমা, চাঁদনী চক, নূর-জাহান ও ইস্টার্ন মলিস্নকাসহ ফুটপাতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। যেহেতু ঈদের আগে পহেলা বৈশাখ তাই দোকানগুলোতে শাড়ি ও পাঞ্জাবির কিনতে আশা ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। এছাড়াও ছোটদের পোশাকের বিক্রি ছিল উলেস্নখযোগ্য।

ক্রেতারা জানান, পহেলা বৈশাখের কারণে এবার একটু আগে ভাগেই পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে হচ্ছে। পাঞ্জাবি ও শাড়ির দোকানের পাশাপাশি থ্রি পিস ও ওয়ান পিসের দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। অন্যদিকে যারা থান কাপুড় কিনছেন তাদের আনাগোনা ছিল চাঁদনী চক মার্কেটে। এখানকার ক্রেতারা জানান, ঈদের আগে পোশাক বানাতে হলে টেইলার্সে আগেই কাপড় দিতে হবে। তাই আগেই থান কাপড় কিনতে এসেছেন।

এদিকে ছোটদের তৈরি পোশাকের দোকানে দেখা গেছে অভিভাবকদের ভিড়। বিশেষ করে হকার্স, চন্দ্রিমা ও নূরজাহান মার্কেট ছিল ক্রেতাদের দখলে। ছোটদের পছন্দের তালিকায় ছিল ওয়েস্টার্ন ডিজাইনের শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, ফ্রক, কটি ও জিন্স প্যান্ট। অন্যদিকে নিউমার্কেট গোল চত্বর জুড়ে ছিল মেয়েদের বাহারি রঙের ওয়ান পিস ও থ্রি-পিসের পসরা। এসব থ্রি-পিসের বেশির ভাগই বিদেশি।

বিক্রেতারা জানান, গত বারের মতো এবারের ঈদেও পাকিস্তানি ওয়ান পিসের চাহিদা বেশি। ভারতীয় পোশাক যেমন দিলিস্ন বুটিকস ও জয়পুরির চাহিদাও ভালো।

খান গার্মেন্টসের বিক্রেতা জামিল বলেন, ‘এবার রমজানের এক সপ্তাহ পরই মার্কেটে ক্রেতা আসতে শুরু করেছে। গত শুক্রবার থেকে বলতে গেলে ঈদের আমেজে বিক্রি চলছে।’ তিনি বলেন, আমাদের বেশিভাগ ক্রেতাই ওয়ান পিস ও থ্রি পিসের। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি পোশাক। ১০০ ওয়ান পিস বিক্রি করলে ৯০টিই থাকে পাকিস্তানি’।

কেবল খান গার্মেন্টস না নিউমার্কেট চত্বরের বেশিরভাগ দোকানেই পাকিস্তানি থ্রি পিসের বিক্রি বেশি।’ এর মধ্যে তাওকাল, আগানূর, মারিয়া বি, নূর, জহুরা, সানা সাফিনাজ, খুবসুরাত উলেস্নখযোগ্য ব্র্যান্ড। এসব থ্রি-পিস ও ওয়ান পিসের দাম ৩,৫০০-১০,০০০ হাজার টাকা।

থ্রি-পিস কিনতে আসা রুকাইয়া রহমান বলেন, ‘গত ৩ বছর ধরে পাকিস্তানি ওয়ান পিস কিনছি। কিন্তু এবার দাম খুব বেশি। গতবার অনলাইনে যে মানের ওয়ান পিস ১,৮০০ টাকায় কিনেছি তা এবার কিনতে হয়েছে ৩ হাজার টাকার ওপরে। একইভাবে ৩ হাজার টাকার থ্রি-পিস এবার বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকার উপরে।

বিক্রেতারা জানান, ‘কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ সব ধরনের ব্যয় ২০-৪০ শতাংশ এবং পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়াও পাকিস্তান থেকে সরাসরি আমদানি না করে দুবাই থেকে আমদানি করায় এসব পণ্যে দাম আরও বেড়েছে।’

এর বাইরে শাড়ির দোকানগুলোতে উলেস্নখযোগ্য ক্রেতার পদচারণা লক্ষণীয়, যার বেশিভাগই বৈশাখ উপলক্ষে শাড়ি কিনতে এসেছেন। বেশির ভাগ ক্রেতাই সিল্ক, হাফ সিল্ক, তাঁত ও জামদানির শাড়ি কিনছেন।

অন্যদিকে নিউমার্কেটের পাশাপাশি চন্দ্রিমা, হক, নিউসুপার মার্কেটে চলছে পাঞ্জাবির জমজমাট বেচাকেনা। বিক্রেতারা বলছেন, বৈশাখের কারণে এবার রমজানের শুরু থেকেই পাঞ্জাবির বিক্রি বেড়েছে। বেশির ভাগ ক্রেতাই কিনছেন সুতির পাঞ্জাবি। এর বাইরেও খাদি, তশর, লিলেন ও সিল্কের পাঞ্জাবি কম বেশি বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দাম রয়েছে এসব পাঞ্জাবির।

পাঞ্জাবি কিনতে আসা ফারদিন জাহিদ বলেন, ‘এবার দোকানগুলোতে পাঞ্জাবির কালেকশন ভালো, তবে দাম অনেক বেশি। সাধারণ সুতির ১৪শ টাকা দরের পাঞ্জাবি এবার ২৬শ টাকায় কিনেছি। তিনি বলেন, বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের খরচ বেড়ে যাওয়া এবার বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এবারের পোশাকের মান অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক ভালো।

এদিকে মার্কেটের বাইরেও ফুটপাতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। তুলনামূলক দাম কম থাকায় স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষের সাধ্যের মধেই সব ধরনের পোশাক কিনতে পারছেন ফুটপাতে থাকা দোকান থেকে। পরিবারের জন্য পোশাক কিনতে আসা নির্মাণ শ্রমিক আবদুর রহমান জানান, ৩ মাসের কাজ শেষে দু- একদিনের মধ্যেই দেশের বাড়িতে যাবেন তিনি। তাই পরিবারের সবার জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন। রহমান বলেন, ‘৩ ছেলেমেয়ে, মা, স্ত্রী, ভাইয়ের মেয়ে ও ছেলেসহ পরিবারের সবার জন্য একটি হলেও পোশাক কিনেছি। উপরের দোকানের তুলনায় দাম কম থাকায় সবার জন্য কিনতে পেরে আমি অনেক খুশি। আজ-কালের মধ্যে বাড়িতে যাব। সবাই আমার অপেক্ষায় রয়েছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com