বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন
ঢাকাই চলচ্চিত্রে হাতে গোনা যে ক’জন শীর্ষস্থানীয় নায়িকা আপন আলোয় উজ্জ্বল হয়ে আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম দিলারা হানিফ রিতা। দর্শক ও চলচ্চিত্র মহলে যিনি কেবলমাত্র পূর্ণিমা নামে পরিচিত। আগের মতো অভিনয় কিংবা মডেলিংয়ে দেখা না গেলেও মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন স্টেজ শোতে ঝলক দেখান এই তারকা। এই অভিনেত্রীর ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ নামের দু’টি সিনেমা মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে অনেক আগেই। বর্তমানে হাতে রয়েছে সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘আহারে জীবন’। আসন্ন ঈদে একটি ওয়েব সিরিজ নিয়ে হাজির হচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী। কাজ ও অন্যান্য বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীর বিপ্লব
পরিবারকে সময় দিচ্ছি…
রোজা উপলক্ষে বেশি কাজ করা হচ্ছে না। তাছাড়া এই সময়ে কোনো স্টেজ শোও নেই। তাই সময়টুকু পরিবারের সঙ্গেই কাটাচ্ছি। ঈদের পর আবার কাজে ফিরব। এই ঈদে আমার আহারে জীবন সিনেমাটি মুক্তির কথা ছিল কিন্তু কোনো এক কারণে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে না। সরকারি অনুদানের এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ছটকু আহমেদ। এর পাশাপাশি একটি রিয়েলিটি শো’র উপস্থাপনার কাজ এবং প্রথমবার ওয়েব সিরিজে অভিনয় করলাম।
কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছি…
‘আহারে জীবন’ সিনেমার গল্পটা অসাধারণ মনে হয়েছে আমার কাছে। এতে আমি গল্পের কেন্দ্রীয় একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস। শ্রদ্ধেয় ছটকু ভাই গুণী একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন আমাকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করবেন। অবশেষে তার নির্দেশনায় অভিনয় করা হলো। আশা করছি দর্শকের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাব।
একেবারেই অন্যরকম অভিজ্ঞতা…
তবে সিনেমা না মুক্তি পেলেও এবার ঈদে দর্শক থেকে পুরোপুরি দূরে থাকব না। প্রথমবার ওটিটি পস্ন্যাটফর্মে দেখা যাবে আমাকে। কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘হোটেল রিল্যাক্স’-এ একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করছি। ওটিটি পস্ন্যাটফর্ম কিংবা ওয়েব সিরিজে কাজ করা আমার জন্য একেবারেই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। আর সামাজিক মাধ্যমে ভক্তরাও এই সিরিজটির জন্য অপেক্ষা করছেন বলে মন্তব্য করছেন। আর সত্যি কথা, আমি নিজেও ‘হোটেল রিল্যাক্স’র দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। কারণ একদিকে এটি আমার প্রথম ওয়েব সিরিজ, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর নতুন কোনো কাজ আসছে। আবার নির্মাতা হিসেবে কাজল আরেফিন অমিরও বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার কাজ মানেই বিশেষ কিছু। সব মিলিয়েই এই অপেক্ষা।
জ্যাম ও গাঙচিল প্রসঙ্গ…
এই দুটি সিনেমা কেন যে মুক্তি পাচ্ছে না বুঝতে পারছি না। সেই ২০১৯ সালের শেষের দিকে গাঙচিল সিনেমার কাজ শুরু করি। প্রায় একই সময়ে জ্যাম নামের আরেকটি সিনেমার কাজ ধরি। দুটি সিনেমারই পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল এবং আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। আমরা দু’জনেই ছবি দুটির জন্য প্রতীক্ষা করছি। কারণ, খুবই অসাধারণ গল্পের সিনেমা হয়েছে দুটি। আর আমার চরিত্রটিও অন্যরকম। দুই সিনেমার দু’রকম স্বাদ পাবে দর্শক। পরিচালকের কাছ থেকে শুনলাম চলতি বছরেই ছবিগুলো নিশ্চিত মুক্তি পাচ্ছে।
ছোট পর্দাতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি…
আমি চাইলেই ৫-৬টা সিনেমায় সাইন করে কাজ শুরু করতে পারি। তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর আমি অভিনয়ের বাইরে ছিলাম। আমি ভালো ছবির মাধ্যমেই কামব্যাক করতে চাই। গতানুগতিক ধারার কাজ করতে চাইছি না। এখন যে কাজ করতে চাই, তাতে ধামাকা থাকতে হবে। আমার চরিত্রের গুরুত্ব থাকতে হবে। তাছাড়া বড় পর্দার চেয়ে ছোট পর্দাতেই কাজ করতে এখন বেশি ভালো লাগে। টেলিভিশনটা আমার জন্য সহজ একটি মাধ্যম। আমি আগেও ছোটপর্দায় কাজ করেছি। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে অনেকেই আমাকে চান। নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ সন্তান-সংসার সামলে এই কাজটা আমার জন্য সহজ।
চলচ্চিত্রে গ্রম্নপিং বেড়ে গেছে…
চলচ্চিত্রের পরিবেশের কথা আর কী বলব! চলচ্চিত্রে গ্রম্নপিং বেড়ে গেছে, শিল্পীদের সংখ্যা কমে গেছে। সিনিয়র পরিচালক-প্রযোজক কমে গেছে। নতুনভাবে শিল্পী তৈরি হচ্ছে না। এছাড়া যৌথ প্রযোজনার একটা প্রতিবন্ধকতা তো আছেই। এর ফলে আমাদের দেশের শিল্পীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদেরকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিদেশি শিল্পীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হলে সিনেমা হিট করছে না, এটাও ভাবনার বিষয়। পরিচালক-শিল্পী ও লোকেশন সব মিলে আমরা অন্য এক জায়গায় আছি।