বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
দিন-তারিখ বর-কনে সব ঠিক। শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বাকী। নতুন সংসার গড়ার জন্য প্রস্তুতি চলছে। একসঙ্গে অনেকের বিয়ে হবে তাই সবার আগ্রহ বেশি। অনেকে সে বিয়ে দেখতে আশার পরিকল্পনাও করে। তবে সেই বিয়েতে গড়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। আয়োজন করা হয় গণবিয়ের।
তবে সেই গণবিয়ের আগে হঠাৎ করে কনে অন্তঃসত্ত্বা কি না, তা জানতে করা হয় পরীক্ষা। আর এমন পরীক্ষা অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে সে পরীক্ষার ফলে জানা যায়, পাঁচ কনে অন্তঃসত্ত্বা। আর এ নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পরে তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। গত শনিবার ভারতের মধ্যপ্রদেশে এ ঘটনা ঘটে। এমন ঘটনায় তোলপাড় সৃ্টি হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, গত শনিবার ভারতের মধ্যপ্রদেশের ডিন্ডোরী জেলার গাড়াসরই গ্রামে এমন একটি গণবিয়ের আয়োজন করেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। সাড়া জাগানো সেই গণবিয়ের আসরে ২১৯ জন কনে বিয়ের জন্য আসেন। তাদের সবার বরও ঠিক করা হয়। বিয়ের জন্য আগে থেকেই নাম নথিভুক্ত করানো হয়েছিল তাদের। তবে শারিরিক পরীক্ষার কোনো বিষয় তখন তাদের জানানো হয়নি।
হঠাৎ বিয়ের আগে কনেদের প্রেগনেন্সি টেস্ট করানো হয়। রাজ্যজুড়ে গণবিয়ের আগে এ পরীক্ষা করানোর কারণে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশে নিয়ে আশায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে। কিন্তু পরীক্ষার ফল যখন জানা যায়, তখন দেখা যায় কনেদের মধ্যে ৫ জন অন্তঃসত্ত্বা। শুরু হয়ে যায় শোরগোল। এরপর তাদের নামও বিয়ের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তাদের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। আর তখন বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে।
ডিন্ডোরী জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই পরীক্ষা করা হয়েছে।
এদিকে, সব ঠিক হওয়ার পরও বিয়ে বাতিল হওয়ায় ওই পাঁচ কনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদের আগে জানানো হলে তারা নাম লিখাতেন না। তারা নিজের জানতেন যে তারা অন্তঃসত্ত্বা। কর্তৃপক্ষ তাদের বিষয় লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। তাদের সবারই দাবি, বিয়ে ঠিক হওয়ার পর হবু স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেন। হবু স্বামীর সঙ্গে শারীরিক মেলামেশার কারণেই তারা সবাই অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলেও দাবি করেন। ভারতে এটা কোনো অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তবে তাদের দাবি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই এমন কাণ্ড করেছে। যেন তারা ভাইরাল হয়। অবশ্য এঘটার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এদিকে, অন্তঃসত্ত্বা হলে যে বিয়ে বাতিল হবে বা বিয়ের আগে যে এই পরীক্ষা হবে তা কনেদের আগে থেকে জানানো হয়নি।
স্থানীয় গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান দাবি করেছেন, ‘এর আগে কখনো এভাবে কনেদের পরীক্ষা করা হয়নি। এটা ঘটনায় নারীদের অপমান করা হয়েছে।’
বিজেপি নেতা শিবরামের এমন কর্মকাণ্ডে সমালোচনা করছে রাজ্যটির বিরোধী দল কংগ্রেস। এই গণবিয়ে প্রকল্প এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমালোচনা করছেন তারা।