সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে একমাত্র আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক চর্চা করে এবং আওয়ামী লীগের সময়ই সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকে। বৃহস্পতিবার জাপানের রাজধানী টোকিওয় স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় একটি হোটেলে সে দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
একমাত্র আওয়ামী লীগের সময় সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা বলছে গণতন্ত্র নাই, মিলিটারি ডিক্টেটর থাকলে গণতন্ত্র থাকে? ভোট চুরি করলে গণতন্ত্র থাকে? হ্যাঁ-না ভোট গণতন্ত্র? কারচুপি করা সেটা গণতন্ত্র? আর আওয়ামী লীগ! আমরা ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি করা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, আইডি কার্ড, ভোটের একটা সুস্থ ব্যবস্থা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সরকার আমলে যতগুলো উপ-নির্বাচন হয়েছে, যতগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে আপনারা জানেন নিজেদের মধ্যে ওই ওয়ার্ড বা কমিশনার তাদের মধ্যে কিছু ঘটনা ঘটে, কিন্তু প্রত্যেকটা নির্বাচন আমরা সুষ্ঠুভাবে করতে পেরেছি।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে পুরাতন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি হামিদ সাহেব দুই টার্ম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। বাংলাদেশে এটা একটা ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রপতি এতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেননি, সুষ্ঠুভাবে বিদায় নিতে পারেননি। জাতির পিতাকে তো হত্যা করেই ফেলল। এরপর যারা এলো তাদের একে একে অস্বাভাবিকভাবেই বিদায় নিতে হয়েছিল।’
‘আওয়ামী লীগের সময় সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকে বলেই আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে আমরা রাজকীয় সম্মান দিয়ে বিদায় দিতে পেরেছি। নতুন রাষ্ট্রপতিকেও আমরা নির্বাচন করিয়েছি। তারা একই জায়গায় বসে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। অথচ, এর আগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা হস্তান্তর, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি বা নতুন রাষ্ট্রপতি এত সুন্দর ব্যবস্থাপনা কোনোদিন পাননি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই এই ইতিহাসটা আমরা তৈরি করতে পারলাম। এটাই গণতান্ত্রিক চর্চা, এটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এটাকে গণতন্ত্র বলে। পোটলা দিয়ে বের করে দেওয়া এটা কিন্তু গণতন্ত্র নয়।’
জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার পর ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে বার বার, কীভাবে? গণতন্ত্র তো ছিলই না। ভোট, ওই হ্যাঁ-না বাক্সে ভোট, না বাক্স খুঁজে পাওয়া না, সব হ্যাঁ বাক্স- সেটা জিয়াউর রহমানের আবিষ্কার। ভোট নিয়ে খেলা, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া এই কাজটা তো শুরু করে দিল বিএনপি। ক্ষমতা দখল করেই রাজনৈতিক নেতা বনে গেল। জিয়ার আমলের নির্বাচন! নির্বাচন তো না মানুষকে ধোঁকা দিয়ে, মানুষের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকার কালচার শুরু করে জিয়াউর রহমান। তাকে অনুসরণ করে মিলিটারি শাসক এরশাদ এবং খালেদা জিয়া। জাতির পিতাকে হত্যার পর স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে ২৯ বছর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল না। কোনো গণতন্ত্র ছিল না এবং গণতান্ত্রিক শাসক ছিল না।’
দেশে গণতন্ত্র নেই এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, কেন? বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বলে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট মাত্র ৩০টি সিট পেয়েছিল, যেখানে বাকি সিটগুলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে। এ সময় বিএনপির নির্বাচনে না প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরবর্তীতে তারা আগুন সন্ত্রাস করেছে। আর আওয়ামী লীগ সরকার তো দেশের উন্নয়ন করেছে। ওরা কোন মুখে নির্বাচন করবে, কোন মুখে মানুষের কাছে ভোট চাইবে। যে কারণে বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সবাইকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং দেশকে এসব থেকে মুক্ত রাখতে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন।