সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
শনিবার (২০ মে) রাত ১১টায় গাজীপুর মহানগরের ছয়দানায় নিজ বাড়িতে টঙ্গীতে হামলা পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি এখানে পাঁচ বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। তিন বছর দায়িত্ব পালন করার পর ঢাকা থেকে চিঠি দিয়ে আমার মেয়রের পদটা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। সেই হিসেবে বিনয়ের সাথে বলতে চাই যেহেতু নির্বাচন কমিশনার এখানে তফসিল দিয়েছেন, আমার মা জায়েদা খাতুন টেবিল ঘড়ি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। একটা পরিকল্পিত শহর গড়ার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করার জন্য নির্বাচন করছেন। আমার মা বলেছেন আমি নির্বাচন কমিশনারকে সহযোগিতা করতে চাই, সরকারকেও সহযোগিতা করতে চাই। গাজীপুরে একটা ভোট হোক ভোটে যেন হাজার হাজার মানুষ লক্ষ লক্ষ মানুষ লাইন ধরে নিজের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য ভোটটা যেন দিতে পারে। মা বলেছে তুমি সন্তান হিসেবে আমার পাশে থাকো আমিও মায়ের পাশে আছি। যারা আওয়ামীলীগ বা সরকারের সাপোর্টিংএ যারা নির্বাচন করছেন তাদেরকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। আমরা যে কোন প্রার্থীকে স্বাগত জানাই। আমার মায়ের বয়স সত্তর, ওনি যখন নির্বাচনের প্রচারণায় নেমেছেন গাজীপুরে, বিশেষ করে টঙ্গীতে কয়েকটি এলাকায় যাওয়ার পর আমাকে এবং মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ির উপর ঝাঁপিয়ে পরে কিছু সন্ত্রাসী লোক। তারা আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এক নেতার নিজস্ব লোক আত্মীয় স্বজনসহ তার কিছু নিজস্ব যেটা পূর্বেও ওনি পৌরসভায় থাকতেও এসব ক্যাডার বাহিনী ছিল। সেই বাহিনীরা আমি নির্বাচিত হওয়ার পরে তিন বৎসর গাজীপুর কোন রাজনৈতিক কোন হত্যা কোন ধরনের অনিয়ম হয় নাই। গাজীপুরে যদি অনিয়মের নির্বাচন হয় যদি পেশী শক্তির মানুষ আবার নির্বাচিত হয় তাহলে টঙ্গীসহ গাজীপুরকে তছনছ করে দিবে।
নির্বাচনের বাধার বিষয়ে তিনি বলেন, একটা পোস্টার লিফলেট দিতে গেলে সে বাধা দেয়। এটা কোন ধরনের ভোট কোন ধরনের প্রচার। আমরা তো কোন প্রার্থীকে এখানে বাধা দেই নাই। এখানে সাড়ে ৩শ মতো কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন আরও সাত জন মেয়র প্রার্থী আছেন আমরা সবাইকে স্বাগত জানাই। কোন রোড দিয়ে যেতে গেলে আমরা তাদেরকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করি।
তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে কয়েকটা টিভি চ্যানেলকে উস্কে দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যেন মিথ্যা প্রচার করা হয়। এখন তারা ফেসবুক—ইউটিউব কন্টোল করার চেষ্টা করছে। আমাকে এবং আমার মাকে যে টিভিতে না দেখানো হয়। আমরা সকল সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা চাচ্ছি। কারণ গাজীপুরের মানুষ ভোট দিবে প্রত্যেকে একটা করে ভোটের মালিক। মালিকরা হচ্ছে শহরের মালিক ভোটাররা হচ্ছে শহরের মালিক। সেই হিসেবে তারা ভোটটা দিবে। তারা যেন সুন্দর ভাবে সুষ্ঠু ভাবে ভোটটা দিতে পারে।
জাহাঙ্গীর বলেন, আমাদের কাছে ১২লাখ ভোটারই সম্মানিত ব্যক্তি। কাউকে অসম্মান করে আমরা ভোটের রাজনীতি আসি নাই বা আসবো না। সেই হিসেবে আমরা যে কয়দিন টঙ্গীতে গিয়েছি তারা আমার মায়ের গাড়ি পুড়ে তারা আমার মাকে আঘাত করার জন্য এবং আমাকে আঘাত করার জন্য এবং আমাদের সাথে আশে পাশের এলাকার লোক যায় তাদের গায়ে হাত তুলে। আমরা সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। পুলিশও অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইলো। পুলিশও তাদেরকে কিছু বলতে পারলো না তাদের পেশি শক্তির কাছে। প্রশাসন যদি অসহায়ত্ব বোধ করে তাহলে এখানে নির্বাচন কমিশনার এবং সরকার কিভাবে নির্বাচন করবে এবং এই ব্যক্তিরা যদি জোর করে নিজের ডিক্লারেশনটা নিয়ে যায় তাহলে আমাদের গাজীপুরের ১২লাখ মানুষ প্রায় ৩৯লাখ লোক এই শহরে বসবাস করে, তাদেরকে জিম্মি করে এই শহর ধ্বংস করবে। আজকে টঙ্গীর যে ৫৭নং ওয়ার্ডে যে ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা এ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এখানে বড় মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আপনাদের সন্তান এবং আপনার কর্মীর উপরে অত্যাচার চালানো হচ্ছে। সারা বাংলাদেশের যারা আওয়ামীলীগ আছেন এবং সহযোগী সংগঠন আছেন, কেউ যাতে ন্যায় বিচার থেকে যেন দুরে থাকতে না পারে সেই হিসেবে আমি মনে আমাদের যারা সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় আছেন এবং প্রশাসনের লোক আছেন তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সত্যটা জানান।
বিরোধী প্রার্থী ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখানে একজন ভোটারকে, একজন এজেন্টকে ধমক দিয়ে, মামলার ভয় না দেখিয়ে, এরেস্টের ভয় না দেখিয়ে, তাদেরকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি না দিয়ে যাকে এখানে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার সাথে জনগণের কোন সম্পর্ক নাই। পেশী শক্তির কিছু মানুষকে দিয়ে সে এখানে ভোটটা করতে চাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার, ইভিএম এবং সিসি ক্যামেরা থাকবে একটা স্বচ্ছ সারা পৃথিবীর মানুষ দেখবে একটা ভাল ভোট হয়েছে। এই ভোটকে বিতর্কিত করার জন্য ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যিনি আজমত উল্লা সাহেব আছেন উনি অত্যন্ত বয়স্ক মানুষ শ্রদ্ধেয় মানুষ উনি যে পায়তারা শুরু করেছে এটা ভবিষ্যত সরকারের জন্য এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য কাল হয়ে যাবে। আমি মনে করি নির্বাচন কমিশনের যারা দায়িত্বে আছেন এবং প্রশাসনের যারা দায়িত্বে আছে তারা সবাই উচ্চ শিক্ষিত এবং ভাল পরিবারের সন্তান। তাদেরকে ব্যবহার করে যে ভোটটা কলংকিত করা না হয়। আমি আবারও বলছি আপনাদের ডিক্লারেশন দরকার। তাহলে আপনারা বলেন আমরা সকল প্রার্থী প্রত্যাহার করবো। কিন্তু তারপরও বলি ভোটের নামে যে সে যেন কোন দখলবাজি পেশিশক্তি এক প্রার্থীকে আরেক প্রার্থীকে ছোট করে কোন কথা যেন না বলেন, এটা অনুরোধ করছি।
প্রচারনায় হামলার বিষয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, আজকে আমার মায়ের উপর, আমার উপর এবং আমাদের নেতাকর্মীর এবং সাপোর্টাররা যারা আছেন তাদের যে ক্ষতি করেছে সেটা বিচার বিভাগের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। পরশুদিন টঙ্গীতে হামলার ঘটনা আমরা মামলা করেছি। এখনো কোন আসামী ধরে নাই। এগুলো বন্ধ করেন। মানুষ এগুলো পছন্দ করে না। এগুলো ভাল কাজ না। সেই জন্য অনুরোধ করবো, জনগণের ভোটটা যেন সুষ্ঠু ভাবে সুন্দর ভাবে দেয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনে ডাকার বিষয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, আমার নামে এক রাতে এক দিনে দুদুকের দুইটি চিঠি দিয়ে দিলো ২১ এবং ২২ তারিখে দুদক কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য। দুদক কার্যালয় জানে গাজীপুরে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হচ্ছে। আমার মা জায়েদা খাতুন নির্বাচন করছে এটা সবাই জানে সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে। আমি তার সন্তান হিসেবে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে আছি। দুদক একটা সম্মানিত প্রতিষ্ঠান, দুদক একটা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের জায়গা। তারা কিভাবে আমাকে সেই সুযোগটা না দিয়ে আমাকে ২১ এবং ২২ তারিখ মাত্র তিন প্রচারের সময় আছে তারা গাজীপুর থেকে নিয়ে যাবে। এটার আলামত টা কি হতে পারে। সেই হিসেবে প্রত্যেকটি ভোটারকে বলে রাখি আমাকে এরেস্ট করে বা আমাকে অন্য কিছু করে তাহলে আমার মা মানে আপনাদের মা। যদি মাকে অসম্মানী করা হয় তাহলে জাতিকে অসম্মানী করা হবে। সেই হিসেবে মার সন্তান হিসেবে মার পাশে থাকতে চাই। আপনারা আমাকে যেকোন সময় এরেস্ট করে নিয়ে যান কোন সমস্যা নাই আমি ঘরেই থাকি। আমাকে বলবেন আমি স্যারেন্ডার দিবো। কিন্তু মিথ্যা তথ্য দিয়ে দুদকের কাছে গিয়ে যদি আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় এবং আপনাদের কিছু টিভি চ্যানেল দিয়ে মিথ্যা প্রচার করা হয়। এটা ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের জন্য এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য খুব খারাপ জিনিস। আমি অনুরোধ করবো এবং সরকার প্রধানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। মিথ্যা দিয়ে আপনার সন্তান আপনার কর্মীকে অপমানিত করা হচ্ছে। কারণ আমি ছাত্রলীগ থেকে জন্ম, এখানে আমার সৃষ্টি হয়েছে। সেই হিসেবে কেউ ভূল না বুঝে। আমি আওয়ামীলীগ করে এখানে আসছি। সে হিসেবে আমাকে যেন ভুল ব্যাখ্যা না দেয়া হয়। আমি বলেছি আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে আমি নই নৌকার বিরুদ্ধে আমি নই। আমি সরকারের বিরুদ্ধেও নই। আমি শুধু একজন ব্যক্তি বিরুদ্ধে। ব্যক্তি একজন মুখোধারী ভন্ড মানুষ। প্রতারণা করে মানুষের সামনে খুব ভাল সাজে পেছনে খুব ক্ষতি করে। টঙ্গীর মানুষকে জিম্মি করেছে। সেই টঙ্গীর মানুষকে উদ্ধার করতে চাই। সকলের শহর ৫৭টি ওয়ার্ডের মানুষের শহর। সবাই মিলে মিশে গাজীপুরে আমরা বসবাস করতে চাই। এখানে গার্মেন্টস্ সেক্টর থাকায় আমাদের অর্থনীতি অবস্থা ভাল। আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল করে দিয়েছি। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা নতুন শহর গড়তে চাই। সেই হিসেবে আজকে যে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে আমি মনে করি ২৪ঘন্টার মধ্যে বিচার এবং আমাদের নির্বাচন করার সুষ্ঠু পরিবেশ দেয়া হোক। সেই হিসেবে আমরা সকল প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনটা করবো। আমরা নির্বাচন কমিশনার এবং সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। ভোটটা যাতে স্বচ্ছ হয় সেটা যেন সবাই দেখতে পারে। যেমন গাজীপুরের মানুষ উপলদ্ধি করবে সারা বাংলাদেশেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবাই সুন্দর ভাবে অংশ নিবে।