রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

নায়ক ফারুকের শূন্য আসনে লড়তে চান অনেক তারকা

সদ্যপ্রয়াত অভিনেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন ফারুকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৭ আসনকে শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হতে পারেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। শূন্য হয়ে পড়া ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন নিয়ে নানামুখী আলোচনা গুঞ্জন-গুজবের পাশাপাশি চলচ্চিত্র মহলে এক ধরনের ঠাণ্ডা লড়াই বিরাজ করছে গত কয়েকদিন ধরে। প্রার্থী হিসেবে এরই মধ্যে শোবিজের অনেক তারকার নাম আসছে প্রস্তাবনা আকারে। যদিও ফারুকের মৃত্যুর অনেক আগে থেকেই এই আসনে নির্বাচন করার আগ্রহের কথা জানান টিভি অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক।

গত রোজার মধ্যে রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরই মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান গুলশান-বনানী এলাকায় পোস্টারও সাঁটিয়েছেন। ফেসবুকেও সেই পোস্টার শেয়ার করেছেন এই টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেতা। এর আগে এই অভিনেতা ২০১৮ সালে টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনলেও দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি।

সিদ্দিকের এই নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিত্রনায়ক ওমর সানী প্রস্তাব করেন চিত্রনায়ক ফেরদৌসের নাম। এরপর চিত্রনায়িকা অঞ্জনা প্রস্তাব করেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক আলমগীরের নাম। সেই সঙ্গে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও শোভা পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সর্বশেষ এসব বিষয়ে একেবারে ভিন্নমত প্রকাশ করে সবাইকে এক হাত নিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা বাপ্পারাজ। তিনি এক পোস্টে জানান, সদ্য প্রয়াত নায়কের ইমোশন ব্যবহার করে নির্বাচনী ফায়দা নিতে চাইছেন অনেকেই। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে বাপ্পারাজ লিখেছেন, ‘ঢাকা উত্তরের যারা মেয়র হয়ে আসেন, তারা এতটাই এফিসিয়েন্ট যে, কোনো কাজ অসমাপ্ত রাখেন না, যেটা এসে কোনো এমপি সাহেবকে সমাপ্ত করতে হবে। একজন মৃত মানুষের ইমোশনকে ক্যাশ করে যারা ফায়দা লুটতে চাচ্ছেন, তারা অফ যেতে পারেন, গুলশান আপনাদেরকে চায় না।’

ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনের কারণ উল্লেখ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই এলাকার প্রয়াত এমপি একজন শিল্পী ছিলেন। সুতরাং একজন শিল্পীর জায়গায় আরেকজন এলে ভালো হয়। এ ছাড়া আমি দুই যুগ ধরে এ এলাকায় বাস করছি; স্থায়ী বাসিন্দা। ফলে এখানে আমি কর্মী বাহিনী তৈরি করেছি। এই এলাকার মানুষের সঙ্গে একটা বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।’

ফারুকের মৃত্যুর দিনও ঢাকা-১৭ আসনে এমপি হওয়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন অভিনেতা সিদ্দিক। তবে সিদ্দিকের বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি চলচ্চিত্রের আরেক অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে নিজের অভিমত প্রকাশ করেছেন ডিপজল। সেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিপজল বলেছেন, ‘মামা (ফারুক) যখন থেকে অসুস্থ, তখন থেকেই তিনি (সিদ্দিকুর) এমপি নির্বাচনের জন্য লাফালাফি আরম্ভ করেছেন। তিনি এমপি নির্বাচন করতেই পারেন। যে কেউ নির্বাচন করতে পারে। উনি (ফারুক) মারা যাওয়ার আগেও লাফালাফি করেছেন। শুধু তাই নয়, উনার লাশ কবরে না নামার আগেই উনি ঘোষণা দিয়ে দিলেন নির্বাচন করবেন। এতে চরম কষ্ট পেয়েছি এবং মনঃক্ষুণ্ন হয়েছি। এ অভিনেতা আরও বলেন, নেত্রী যদি পছন্দ করেন উনাকে মনোনয়ন দিতেই পারেন। তবে ওই আসনে অনেক মানুষ আছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আছেন। স্থানীয় অনেক প্রভাবশালীও আছেন।’

সিদ্দিকুর রহমানের জন্মস্থান টেনে ডিপজল বলেন, ‘আপনার দেশের (গ্রামে) বাড়ি যেখানে, সেখানে গিয়ে নির্বাচন করেন। সুযোগ পেতেও পারেন। ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র গুলশান। এখানে যেই নির্বাচন করুক আশপাশে সবার জানা থাকতে হবে। আপনি এসেই ঘোষণা দিচ্ছেন, নির্বাচন করবেন। এটি ঠিক না। আমিও কিন্তু ওই আসনের ভোটার। অন্তত একটু সময় নিতে পারতেন। সমঝোতায় আসতে পারতেন।

একটা মানুষকে ইজ্জত দিতে পারতেন। ফারুকের মৃত্যুর ৭ দিন পর কিংবা ৪০ দিন পর নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে আসতে পারতেন। এত লাফালাফি করাটা আপনার ঠিক হয়নি। না করাটাই আমি বেটার মনে করি। এ ব্যাপারে আমি প্রচণ্ড মনঃক্ষুণ্ন এবং ব্যথিত হয়েছি। মানুষ রঞ্জিত করে, তবে নিজেকে এতটা রঞ্জিত করা আপনার ঠিক হয়নি।’

ডিপজলের এই বক্তব্যের প্রতিবাদে গণমাধ্যমে সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন, আমি কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। কিন্তু সবাই তার অতীত ঘেঁটে দেখবেন, তিনি এর আগে আওয়ামী লীগের সমর্থনকারী ছিলেন না। তিনি বিএনপি করেন, বিএনপির কাউন্সিলর ছিলেন এক সময়। আমরা বংশগত সূত্রে আওয়ামী লীগের সমর্থক। সুতরাং তার এই ধরনের বক্তব্য হাস্যকর ছাড়া কিছু না।

ডিপজল-সিদ্দিকের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মাঝেই চিত্রনায়ক ওমর সানী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন ‘ফারুক ভাই চলে গেছেন। তার শূন্যতা কেউ পূরণ করতে পারবে না। গুলশান-বনানী তার যে সংসদ সদস্য পদ খালি হয়েছে সেই জায়গায় আমাদের ছোট ভাই ফেরদৌসকে ভাবাই যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটু ভেবে দেখবেন, ধন্যবাদ।’

যদিও এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখাননি ফেরদৌস। এমনকি তিনি কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি। বরং বর্তমানে তিনি গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। রোববার এই অভিনেতাসহ চলচ্চিত্রের বেশ কয়েকজন তারকাকে দেখা গেছে সেখানকার নির্বাচনী প্রচারণায়।

ফেরদৌসের পর চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেতা ও পরিচালক আলমগীরকে প্রয়াত ফারুকের আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেন চলচ্চিত্রের আরেক সিনিয়র অভিনেত্রী অঞ্জনা সুলতানা। ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই প্রস্তাব দিয়ে অঞ্জনা লিখেছেন, ‘সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি চিত্রনায়ক এবং ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন খান পাঠান ফারুক ভাই আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়াতে চলচ্চিত্র শিল্পে যেমন শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি শূন্যতা বিরাজ করছে ঢাকা-১৭ আসনে। চলচ্চিত্র শিল্প থেকে অনেকে চাচ্ছেন এই আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নিজেকে অধিষ্ঠিত করতে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে যাকে মনোনীত করবেন, সেই হবেন এই আসনের নৌকার মাঝি।’

অঞ্জনা আরও লিখেছেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়ক আলমগীর ভাই। যার অবদান এই চলচ্চিত্র শিল্পে অতুলনীয়। শুধু চলচ্চিত্র শিল্পই নয়, সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অনন্য অবদান রয়েছে। আপনারা অনেকে বলতে পারেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে আলমগীর ভাইয়ের অবদান কী? এই ক্ষেত্রে বলতে গেলে আলমগীর ভাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বেড়ে উঠেছেন সেই শৈশব থেকেই।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com