সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’। দেশের প্রথম এই টানেলকে ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ইতোমধ্যে আনোয়ারা উপজেলা প্রান্তে সংযোগ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠছে শিল্পকারখানা। টানেল চালু হলে কর্ণফুলী নদী পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিট। সময়ক্ষেপণ না হওয়ায় গতি পাবে অর্থনীতি। এ সংযোগ সড়ক এক সময় এশিয়ান হাইওয়ের অংশ হয়ে উঠবে।
এদিকে, পদ্মা সেতুর পর অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত নিয়ে আসছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’। এটি বিনিয়োগ, অর্থনীতি, শিল্পায়ন, নগরায়ন, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক অবদান রাখবে। বিশেষ করে এই টানেল হবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এগিয়ে নেওয়ার সেতুবন্ধন। ইতোমধ্যে টানেলের আশপাশের এলাকায় নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের নতুন শাখা খোলাসহ ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। এটি চালু হলে চট্টগ্রাম নগরীর পরিধি বাড়বে। টানেলের এক প্রান্তে চট্টগ্রাম শহর, অপর প্রান্তে আনোয়ারা উপজেলা। শহরের খুব কাছে থাকলেও এই উপজেলা এতদিন অবহেলিত ছিল। টানেল চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি শহরে রূপ নিতে যাচ্ছে আনোয়ারা। ইতোমধ্যে আনোয়ারা উপজেলায় জমির দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পর বাংলাদেশের আরেকটি গৌরব এবং অনন্য স্থাপনা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেল উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এদিকে, সেপ্টেম্বর মাস উদ্বোধনের সম্ভাব্য সময় ধরে দিনরাত চলছে টানেলের ভেতরে ফায়ার ফাইটিং, লাইটিং ও কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনার কাজ। এরই মধ্যে নদীর তলদেশে স্থাপন করা হয়েছে দু’টি টিউব। একটি টিউবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে বিকল্প পথে গাড়ি চালানো যায়, সেটিরও কাজ চলছে। বাতি ও পাম্প স্থাপন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির কাজও সমানতালে চলছে। নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, ৭৭২ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার। এখন চলছে কর্ণফুলীর দক্ষিণ প্রান্তে আনোয়ারা অংশের টোল প্লাজা নির্মাণের কাজ। চট্টগ্রাম পতেঙ্গার নেভাল অ্যাকাডেমি প্রান্ত থেকে টানেলটি নদীর তলদেশ হয়ে চলে গেছে আনোয়ারার চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার লিমিটেড কারখানার মাঝামাঝি স্থানে। এর প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়াও পর্যটন শহর কক্সবাজার এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করবে। দুই পাড়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন হবে।