সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

ভোগ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল সাধারণ মানুষ

চাল-ডাল, ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা, চিনি, লবণ, মাছ-মাংস, সবজিসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে চট্টগ্রামে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট এবং যথাযথ তদারকির অভাবে বাজারে পণ্যমূল্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে বেশি। যে কারণে ক্রেতাদের চড়া মূল্যে পণ্য কিনতে হলেও উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য পান না। এ কারণে শুধু আমদানি পণ্য নয়, দেশে উৎপাদিত পণ্যের দামও ছিল আকাশছোঁয়া। এজন্য বছরের বেশির ভাগ সময় সাধারণ ক্রেতাদের সংসার চালাতে নাভিশ্বাস অবস্থা দেখা দেয়। এর মধ্যে বেশি কষ্টে রয়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের মানুষ।

চট্টগ্রামে বসবাসকারি সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ সরকার দাম বাড়ালে ব্যবসায়ীরা মিনিটের মধ্যে কার্যকর করে। আর দাম কমালে দিনের পর দিনও কার্যকর হয় না। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। নির্ধারিত দাম বাজারে কার্যকর হয়েছে কিনা, তা যাচাই-বাছাই করারও কেউ নেই। অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে সাধারণ মানুষ অসহায়।

এদিকে আগের মতোই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। সরকারিভাবে ভোজ্যতেলের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা কমানো হলেও পাইকারি বাজার গুলোতে এর প্রভাব নেই। আবার কোথাও দাম কমার বদলে বেড়েছে। সয়াবিন তেল ১৭৯ টাকা বিক্রি হওয়ার কথা থাকলে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ১৯৭ টাকায়।

চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজার গুলোতে বেড়েই চলছে ভোগ্যপণ্যের দাম। ভোজ্যতেল ও চিনির পর এবার চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। চালের পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের খোলাবাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ডিলারদের মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে কম দামে চাল বিক্রি করেও বাজার স্থিতিশীল করতে পারছে না প্রশাসন। প্রতিকেজি ৬০ টাকার নিচে কোনো চালই পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবস্তা মোটা সিদ্ধ চালের দাম ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৫০ টাকা। সিদ্ধ মিনিকেটের দাম আগে ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এ সপ্তাহে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা। গুটিস্বর্ণার দাম ছিল ৩ হাজার ১০০ টাকা, এখন ৩ হাজার ৩০০ টাকা। ভারতীয় স্বর্ণার দাম ৩ হাজার ১০০ থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৩০০ টাকায় উঠেছে। এছাড়া গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে পারি সিদ্ধ জাতের চালের দাম ৩ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া খুচরা বাজারেও অস্থির চালের দাম। মোটা চাল প্রতকেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।

পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর এবং চলতি বছরে ভালো ফলন হলেও কমছে না দাম। উলটো আরও দাম বাড়ছে। মৌসুম ছাড়াও সরকারও জিটুজি আওতায় বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করেছে। তারপরও দাম কমার লক্ষণ নেই। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে ৫০ কেজির প্রতিবস্তার দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

নগরীর খুচরা বাজারে অন্যান্য চালের মধ্যে মাঝারি মানের বিআর ২৮ চাল খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। আর নানা পদের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।

চালের আড়তদারেরা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। ৫০ কেজি চালের বস্তায় ২০০ টাকার বেশি বেড়েছে। মিলের মালিকরা চালের দাম বাড়াচ্ছেন ।

অপরদিকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আদার দাম কিছুটা কমেছে। এক মাস আগে আদা প্রতিকেজি ৩২০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়, দাম কিছুটা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৬০ টাকায়। তবে রসুনের দাম বেড়েছে। দেশি রসুন কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন প্রতিকেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না চিনি। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২৬ টাকার বেশি দামে। আর খুচরা বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা দরে। এখন চিনির দাম আরও বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

কাচাঁবাজারে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন সবজি থাকলেও দাম কমার নাম নেই । বেগুন প্রতিকেজি ৭০ টাকা, পটল কেজি ৫০ টাকা, টমেটো ২৫০ টাকা কেজি, শিছিঙ্গা প্রতিকেজি ৫০ টাকা, শষা প্রতিকেজি ৪০-৪৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪৫ টাকা কেজি, ঝিঙে ৬০ টাকায়, করলা ৭০ টাকায়, কাঁকরোল রকমভেদে ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঢেঁড়স আগের মতোই ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা। কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গাজর ১৪০ টাকা কেজি, আলু ৪০ টাকা কেজি।

বাজারে মাছের দাম অপরিবর্তিত দেখা গেছে। তবে ইলিশের দাম একটু বাড়তি। বাজারে ইলিশ এলে অন্যান্য মাছে দাম কিছুটা কমে যায়। এবার তেমন দেখা যায়নি, বর্তমানে টেংরা মাছ ৮০০ টাকা কেজি, পাবদা ৫৫০ টাকা কেজি, শিং ৫৫০, তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, রুই ৪০০ থেকে ৪৫০, মীরকার্প ৩২০ টাকা কেজি, ইলিশ মাঝারি ৯০০ টাকা কেজি, ১ কেজি ওজনের বড় ইলিশ ১৬০০টাকা কেজি। গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com