শনিবার, ১৩ Jun ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
বিএনপিকে গণতন্ত্রের পথে হাঁটার অনুরোধ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, গণতন্ত্রের পথে হাঁটলে তাদের লাভ হবে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনারা আর কতদিন আপনাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবেন? আপনাদের দল আজ খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন খাদের মধ্যে পড়ে যাওয়া বাকি আছে। আগামী নির্বাচন বর্জন করলে খাদের মধ্যে পড়ে যাবে।
শুক্রবার (১১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আলোচনায় হাছান মাহমুদ বলেন, আগামী নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপি বুঝতে পারবে, লোম বাছতে গিয়ে কম্বলটাই উজাড় হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপি বুঝতে পারবে। বিএনপি বর্জন করলেও তাদের নেতারা বর্জন করেনি, করবে না।
আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেষ-মেষ দেখতে পেলো, তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি বিদেশিরা কোনো সমর্থন জানাল না। তারা যেভাবে চেয়েছিল, সেভাবে কিছুই হচ্ছে না। এখন তারা ভিন্ন সুরে কথা বলা শুরু করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে বিদেশিদের পেছনে ছুটে কোনো লাভ নেই।
তিনি বলেন, বিএনপির অপরাজনীতি বন্ধ করা দরকার। জ্বালাও-পোড়াও করে কোনো লাভ হয়নি হবেও না। বিএনপি এমন একটি দল, যে দল করলে কোনো নির্বাচন করা যাবে না। মেম্বার, কাউন্সিলর, উপজেলা, চেয়ারম্যান কোনো নির্বাচন করা যাবে না। নেতাকর্মীদের কী ঠেকা পড়েছে, সেই দল করে তারেক রহমানের লাঠিয়াল বাহিনী হওয়ার?
মন্ত্রী আরও বলেন, আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে গেছে, সেটি সমগ্র বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে এবং হয়েছে। আমরা গত পরশুদিন ভারত সফর করে এসেছি। ভারত সফরকালে আমরা যাদের সঙ্গে দেখা করেছি, আলাপ করেছি, তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ভবিষ্যতেও যেন এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেন বজায় থাকে।
তিনি আরও বলেন, আজ নাকি তারা গণমিছিল করবে। গণমিছিল থেকে যদি মানুষের ওপর হামলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা হয়, মানুষের সহায়-সম্পত্তি নষ্ট করা হয়, তাহলে আমরা ছেড়ে দেবো না। আমরা জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা এই উত্তরণের ক্ষেত্রে বঙ্গমাতার বিরাট ভূমিকা ছিল। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে থাকতেন, তখন বঙ্গমাতা সব সময় সংসার সামলেছেন। একজন মহীয়সী নারী ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। একেবারে একজন সাধারণ নারী হিসেবে তিনি জীবন-যাপন করেছেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একমাত্র সহচর। যিনি সুখে, দুঃখে সব সময় ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। বঙ্গমাতার জীবনী থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আসারারুল হাসান আসুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটু প্রমুখ।